ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবির রিজভী

২০২৬ আগস্ট ২১ ১১:০৮:৪৩

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবির রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা রুহুল কবির রিজভী। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিবের পদটি শূন্য হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রিজভীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলের গঠনতন্ত্রের ৭(খ)(৬) ধারা অনুযায়ী রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বিএনপির কঠিন সময়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন রিজভী। দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা, গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাকে নিয়মিত সামনে দেখা গেছে।

রিজভীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। উচ্চমাধ্যমিকের পর তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে এসে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন রিজভী। ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে আসেন।

দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। এরপর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সংবাদমাধ্যমের সামনে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেছেন।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিএনপির ভেতরে সংস্কারপন্থীদের চাপ তৈরি হলে রিজভী দলের মূলধারার রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নেন। ২০১৩ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়। ২০১৫ সালের আন্দোলনের সময় তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনেও ছিলেন। ওই বছরের জানুয়ারিতে বারিধারার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং কারাগারেও যেতে হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ১৮০টির বেশি মামলার উল্লেখ করা হয়েছিল; এর মধ্যে অন্তত ২৫টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে ছিল।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর রিজভী মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর গত ১৫ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া চার নেতার মধ্যে তিনিও ছিলেন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব পদ শূন্য হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার ধারাবাহিকতায় এবার সেই পদে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভীর ওপর আস্থা রাখল বিএনপি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ... বিস্তারিত