ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রদবদলে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন যারা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরপরই মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য এই পুনর্গঠনে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং মিত্র দলের একাধিক নেতা নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
সূত্রমতে, গত ছয় মাসে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয় এমন আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজনের বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে দু-একজনের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
এসব কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে সরকারের ভেতরে-বাইরে আলোচনা চলছে। ফলে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য নিজেদের কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মনে করছেন।
সূত্র জানায়, পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তৎপর হয়েছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশায় অনেকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। মন্ত্রিসভায় নতুন করে কারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, তা জানারও চেষ্টা করছেন আগ্রহী নেতারা। এ সময় তারা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকার পাশাপাশি দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের অতীত ভূমিকার বিষয়ও সামনে আনছেন।
তবে সূত্রগুলো বলছে, এসব তৎপরতা এখনো বিএনপি নেতাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আগে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। সংসদের সব হুইপ এবং বিএনপির কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাই মির্জা ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আগে এবারও প্রধানমন্ত্রী জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে বর্তমানে কেউ নেই। গুঞ্জন রয়েছে, একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। অনেকের মতে, সে ক্ষেত্রে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
তবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, মিত্র দলের সংসদ সদস্য ও বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
একটি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বর্তমানে যে তিনটি মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে, সেগুলোতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রদবদল আসবে এটি নিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আলোচনাও করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে দু-একজন প্রতিমন্ত্রীর ‘পারফরম্যান্স’ তুলনামূলকভাবে ভালো। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। এ ছাড়া সংসদ সদস্য এবং বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে। সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে।
বিএনপির ‘বঞ্চিত’ হিসেবে আলোচনায় থাকা নেতারাও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও মূল্যায়ন না হওয়া নেতাদের নিয়ে আলোচনা বেশি। এ তালিকায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে।
এদিকে ঢাকার একজন মন্ত্রী এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দুজন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা ছড়িয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে অপেক্ষা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- নতুন নিয়মে এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- এসএসসিতে ফেলের হার ৩৭.৭৫ শতাংশ
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪৮ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ১১ আগস্ট
- পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৪১ পদে নিয়োগ