×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবিধান সংশোধনের আগে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৯:৪৫:৩৯

সংবিধান সংশোধনের আগে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্বের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি গত ১৭ বছরে গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে পাওয়া মতামতকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বৈঠকে অনেক মূল্যবান মতামত পেয়েছি। এর মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মতামত রয়েছে, যেগুলো আমরা বিবেচনা করতে পারি। কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা করা হবে। লিখিত বক্তব্যগুলো জমা হওয়ার পর আমরা একসঙ্গে সেগুলো নিয়ে বসব।’

কার কার সঙ্গে আলোচনা করা হবে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ, বিচারক, সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবার এবং গত ১৭ বছরে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে আমরা বসব।’

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে একটি চিত্র নেওয়ার চেষ্টা করব। এরপর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। সংসদে উত্থাপনের পর সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে আলোচনা হবে। তখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে আবারও মতামত তৈরি হবে। এভাবেই একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করেন। কারণ আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করতে চাই।’

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রস্তাব এসেছে। যেহেতু এটি একটি একক রাষ্ট্র এবং আমাদের সংবিধানে বলা আছে এখানে অঙ্গরাজ্যের ব্যবস্থা নেই, সেই বিবেচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না, সে প্রস্তাবও এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছি, সেই হিসেবেই আমরা এগোতে চাই। তবে তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল সেটি বিবেচনা করলে তখন বিষয়টি দেখা যাবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে আরও আলোচনা এবং প্রস্তাব প্রয়োজন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও রূপ সম্পর্কে আমাদের ওপেন ডিসকাশন ও প্রস্তাব দরকার। যেটিকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বিবেচিত করা হবে, সেটিই আমরা গ্রহণ করব। আমরা এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি যে কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হবে।’

জুলাই জাতীয় সনদে থাকা বিভিন্ন প্রস্তাবের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কিছু কিছু প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে আছে। কোথাও কোথাও নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। আমরা বলেছি, বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দিই। সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে, এই ধাপগুলো কোন কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে নেওয়া হবে। আমরা সবাইকে এই প্রস্তাব নিয়ে চর্চা করার আহ্বান জানিয়েছি।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত