ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে জুলাই শহীদদের অসম্মান করেছে ভারত: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের অসম্মান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে দাবি করা একটি দেশে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব শহীদের রক্ত ঝরিয়েছে শেখ হাসিনা, তাদের প্রতি অপমান করতেই এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন পলাতক আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং বিভিন্ন হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ আইনের মাধ্যমে তাকে ফেরত দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে সরকার চিঠি দিলেও সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
রিজভীর দাবি, একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে ফেরত না দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান।
তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ-যাকে বাংলাদেশ বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে-সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা। কিন্তু সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায়। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তার মতে, এ ঘটনায় দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সরকারকে অবহিত করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যেদিন গণতন্ত্র, অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সংঘটিত হয় এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন, ঠিক সেই দিনেই দিল্লিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এটি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীর জীবন গেছে এবং যাদের রক্ত রাজপথে ঝরেছে, সেই ঘটনার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এমন একজন ব্যক্তিকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র দাবি করা একটি দেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া শহীদদের প্রতি অপমান। তিনি এ ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য প্রচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশ যখনই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়, তখনই আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্ত শুরু হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন, ক্ষুধামুক্ত করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়। একই ধরনের নানা পরিকল্পনা এখনো চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- আজ শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- কবে শুরু হচ্ছে ঢাবির ভর্তি আবেদন, জানাল কর্তৃপক্ষ
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ব্যাংক