×

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

 অপ্রতীমের হত্যার কারণ জানালেন পুলিশ সুপার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৫:১৫:১৯

 অপ্রতীমের হত্যার কারণ জানালেন পুলিশ সুপার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক তুহিনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল অসম। তুহিন পড়াশোনা ছেড়ে ড্রপআউট হলেও অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যেও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ। এতে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অপ্রতীমের আইফোন নেওয়াকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক তুহিনসহ অন্যদের অতীত রেকর্ড যাচাই করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাইক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার কথা প্রচার হলেও এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা পাওয়া যায়নি। তবে অপ্রতীমের আইফোনটি তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অপ্রতীমের আইফোন কেড়ে নেওয়াই হত্যার একমাত্র কারণ কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, নিহত অপ্রতীম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং তার বয়স ১৩ বছর। অন্যদিকে আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। সে কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ২০২৫ সালে ফেল করে ড্রপআউট হয়। মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কামরুলও একই স্কুলের শিক্ষার্থী। সিয়াম আব্দুল খান আব্দুল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তাঁদের সঙ্গে অপ্রতীমের বন্ধুত্ব ছিল অসম। অর্থাৎ অপ্রতীম সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত এবং তারা তার সহপাঠী ছিল না। যারা তার বন্ধু ছিল, তারা বয়সে অপ্রতীমের চেয়ে সিনিয়র। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বখাটে ছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, “আমার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের কিছু ভিডিও ফুটেজ এবং টিকটক করার বিষয়সহ কিছু তথ্য রয়েছে। অপ্রতীমসহ বাকি যারা আসামি, তাদের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছি, মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করেছি এবং যে আইফোনটির কারণে হত্যাকাণ্ড, সেই আইফোনটিও আসামির দেখানো মতে তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছি।”

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে। তাঁরা অনেকটা কিশোর অপরাধচক্রের মতো। নিহত ছেলেটির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক, ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তাঁরা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিতেন। খোঁজখবর ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে যা দেখা গেছে, তাঁদের অনেকেই নিহত ছেলেটির চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছরের বড়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় বসবাস করত সে। শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা হলেও ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোর অপ্রতীমকে খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনেকে এগিয়ে আসেন। পরে তার লাশ পাওয়া যায়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ডুয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর পর বিনিয়োগকারীরা এর প্রভাব পর্যালোচনা করছেন। একই... বিস্তারিত