×

ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে হত্যা করা হয় অপ্রতীমকে, আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এল বর্ণনা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৫:০০:৪৭

যেভাবে হত্যা করা হয় অপ্রতীমকে, আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এল বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে বাধা দেওয়ায় তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার।

মো. আনিসুজ্জামান বলেন, চাঞ্চল্যকর অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানের চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে যায়। পরে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার আগেই হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতীমের মোবাইল আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়েছিল সে। তুহিন আরও জানায়, এ ঘটনায় ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফাহাদ জানায়, হত্যাকাণ্ডে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী আইফোন উদ্ধারে প্রথমে তিন জায়গায় অভিযান চালানো হলেও সেখানে সেটি পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার। পরে তুহিনের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তার দেখানো স্থানেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

মো. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানের চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতীমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতীম এতে বাধা দিলে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তখন প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তাঁর আইফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলকে সঙ্গে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরেকজনকেও আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতীম হত্যা মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় এবং এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যার মামলাটি যেভাবে দ্রুত রায় পেয়েছে, এই মামলাটিও যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়-এ জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ডুয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর পর বিনিয়োগকারীরা এর প্রভাব পর্যালোচনা করছেন। একই... বিস্তারিত