ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
রাসুলের (সা.) ওমরাহর প্রতি উৎসাহের কারণ
ডুয়া ডেস্ক: প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে পবিত্র কাবাঘর জিয়ারতের এক গভীর আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে থাকে। আল্লাহর ঘরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ, ইহরামের পবিত্র আবহ এবং ইবাদতে নিমগ্ন প্রতিটি মুহূর্ত একজন বান্দাকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে সরিয়ে মহান রবের আরও কাছে নিয়ে যায়। এ কারণেই ওমরাহ শুধু একটি সফর নয়; এটি তওবা, আত্মশুদ্ধি, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং অন্তরের প্রশান্তি অর্জনের এক মহিমান্বিত ইবাদত।
হজের নির্ধারিত সময়ের বাইরে বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ আদায় করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিক হাদিসে ওমরাহর অসংখ্য ফজিলত, গুনাহ মাফের সুসংবাদ এবং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন। তাই সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওমরাহ হতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার এক অনন্য সুযোগ।
ওমরাহ গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا، وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ
‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের (সগিরা) গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।’ (বুখারি ১৭৭৩, মুসলিম ১৩৪৯)
এই হাদিসে ওমরাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তরিকতা, ইখলাস এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আদায় করা ওমরাহ বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়।
রমজানে ওমরাহর বিশেষ মর্যাদা
রমজান মাসে ওমরাহ আদায়ের ফজিলত অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক নারীকে বলেছিলেন-
فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً
‘রমজান এলে তখন ওমরাহ করে নিও। কেননা রমজানের একটি ওমরা একটি হজের সমতুল্য।’ (বুখারি ১৭৮২, মুসলিম ১২৫৬)
তবে এর অর্থ এই নয় যে, ফরজ হজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। বরং সওয়াবের দিক থেকে রমজানের ওমরাহকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন-
تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ، فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ، كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ
‘তোমরা ধারাবাহিকভাবে হজ ও ওমরাহ আদায় কর। কেননা এ দুটি আমল দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন হাপরের আগুন লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে।’ (তিরমিজি ৮১০, নাসাঈ ২৬৩১)
নারীদের জন্যও ওমরাহর বিশেষ মর্যাদা
ইসলামে নারীদের জন্যও হজ ও ওমরাহর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম-
يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ عَلَى النِّسَاءِ جِهَادٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ لَا قِتَالَ فِيهِ: الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ
‘হে আল্লাহর রাসুল! নারীদের জন্যও কি জিহাদ রয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাদের জন্য এমন জিহাদ রয়েছে, যাতে যুদ্ধ নেই। তা হলো হজ ও ওমরাহ।’ (ইবনে মাজাহ ২৯০১)
এই হাদিস নারীদের জন্য হজ ও ওমরাহর বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
হজ ও ওমরাকারীরা আল্লাহর মেহমান
রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالْحَاجُّ، وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللَّهِ، دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ، وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ
‘আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী, হজকারী ও ওমরাকারী আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তারা তার কাছে প্রার্থনা করেছেন, আর তিনি তাদের তা দান করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ ২৮৯৩)
ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হয়ে মৃত্যু হলেও রয়েছে সুসংবাদ
হজ বা ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হওয়া ব্যক্তির জন্যও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ، كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْحَاجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ، كُتِبَ لَهُ أَجْرُ الْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
‘যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত হজের সওয়াব লেখা হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি ওমরাহর উদ্দেশ্যে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ওমরাহর সওয়াব লেখা হতে থাকবে।’ (সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব ১১১৪)
আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সফর
ওমরাহ একজন মুমিনের হৃদয়কে বিনয়, ধৈর্য, তাকওয়া এবং আল্লাহর স্মরণে পরিপূর্ণ করে তোলে। ইহরামের মাধ্যমে ধনী-গরিব, শাসক-প্রজা, সাদা-কালো-সবাই একই পোশাকে এক কাতারে দাঁড়ায়। এতে ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার অপূর্ব শিক্ষা ফুটে ওঠে।
এই পবিত্র সফর একজন মুসলমানকে তওবা, আত্মশুদ্ধি, গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে দেয়।
ওমরাহ শুধু কাবাঘর জিয়ারতের নাম নয়; এটি একজন বান্দার অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার এক বরকতময় সফর। এই ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ নিজের অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করে এবং আল্লাহর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় লাভের আশা করে।
যাদের আল্লাহ তাআলা সামর্থ্য দিয়েছেন, তাদের উচিত সুযোগ পেলে এই মহান ইবাদত আদায়ে আন্তরিক হওয়া। আর যারা এখনো সেই সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি, তারা আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করুন-তিনি যেন তাঁর পবিত্র ঘর জিয়ারত, তাওয়াফ এবং ওমরাহর সৌভাগ্য নসিব করেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বারবার তাঁর পবিত্র ঘর জিয়ারতের তাওফিক দান করুন, আমাদের ওমরাহ কবুল করুন এবং এই ইবাদতের মাধ্যমে আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত