ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
‘কাকা, এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে’—যেভাবে মিলল অপ্রতীমের মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বাঁশ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান তিনি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. আব্দুল কাদির জিলানী বলেন, তাঁরা সেখানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজের প্রয়োজনে বাঁশ দরকার হলে তিনি সঙ্গের ভাতিজাকে নিয়ে বাঁশ সংগ্রহ করতে ওই দিকটায় যান। এ সময় ভাতিজা তাঁকে বলে, ‘কাকা এখানে একটা বাচ্চা পড়ে আছে।’
জিলানী আরও বলেন, এরপর তিনি সেখানে গিয়ে অপ্রতীমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ওই দৃশ্য দেখে তাঁরা ভয় পেয়ে কাজ ফেলে সেখান থেকে চলে যান।
তিনি জানান, কিছুক্ষণ পর তাঁরা জানতে পারেন, ম্যাডামের বাচ্চাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন তাঁরা জানান, ওই এলাকায় একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেছেন এবং শিশুটি তখনো সেখানে পড়ে আছে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে সঙ্গে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাঁরা শিশুটিকে দেখতে পান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে একটি টিলা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত করা হয়। ওই অবস্থান ধরে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতীমের নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটি তার পরনে ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’
আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নেই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে।’
এ ঘটনায় অপ্রতীমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কেউ জড়িত কি না-এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তাঁর স্বজনেরা দিশাহারা।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত