×

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন আজ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৪:১২:১৫

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জারি হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টায় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হতে পারে।

নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হবে। মূল বেতন একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

নতুন পে স্কেলে আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রায় সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগীও নতুন কাঠামোর সুবিধার আওতায় আসবেন।

মূল গেজেটের সঙ্গে বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য আলাদা এসআরও জারি করা হবে।

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর আইবাস++-এ বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং নতুন হিসাব কাঠামো সংযোজনের কাজ শুরু হবে। এরপর বেতন ফিক্সেশন ও বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আর ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালে। ওই বছর সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।

কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায় সংস্কারের সুপারিশ করা হয়।

পরে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়।

এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল ৩টার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা রয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ডুয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর পর বিনিয়োগকারীরা এর প্রভাব পর্যালোচনা করছেন। একই... বিস্তারিত