ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাসন মাজলেই কমতে পারে মানসিক চাপ? কী বলছেন গবেষকরা
ডুয়া ডেস্ক: দিনভর ব্যস্ততার পর সিঙ্কে জমে থাকা এঁটো থালাবাসন অনেকের কাছেই বিরক্তিকর মনে হয়। কারও কাছে এটি ক্লান্তিকর, আবার কারও কাছে দিনের সবচেয়ে অপছন্দের গৃহস্থালি কাজ। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সচেতনভাবে বা মাইন্ডফুলনেস চর্চার অংশ হিসেবে বাসন মাজা মানসিক প্রশান্তি অর্জনের একটি সহজ উপায় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসন মাজা শুধু ঘর পরিষ্কার রাখার কাজ নয়। সচেতন মনোযোগ দিয়ে এ কাজ করলে মন শান্ত হয়, উদ্বেগ কমে এবং একাগ্রতাও বাড়তে পারে। ফলে দৈনন্দিন এই ছোট্ট অভ্যাস মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বাসন ধোয়ার সময় শুধু কাজ শেষ করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং পানির স্পর্শ, সাবানের গন্ধ, ফেনা এবং হাতের অনুভূতির প্রতি সচেতন মনোযোগ দেন, তাদের মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। একই সঙ্গে ইতিবাচক অনুভূতি ও মনোযোগও বৃদ্ধি পায়। গবেষকদের মতে, এটি বর্তমান মুহূর্তে সম্পূর্ণ সচেতনভাবে উপস্থিত থাকার বা মাইন্ডফুলনেস অনুশীলনের একটি কার্যকর উপায়।
কেন উপকার পাওয়া যায়
মনোবিজ্ঞানীদের ভাষ্য, মানুষের মন প্রায়ই অতীতের অনুশোচনা কিংবা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু বাসন মাজার সময় পুরো মনোযোগ বর্তমান কাজের ওপর কেন্দ্রীভূত করা গেলে মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় চিন্তা থেকে সাময়িক বিরতি পায়। এই বিরতিই মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে হালকা অনুভব করতে সহায়তা করে।
একাগ্রতা বাড়াতেও সহায়ক
বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ করার প্রবণতা বা মাল্টিটাস্কিং মানুষের মনোযোগ দুর্বল করে দেয়। থালা-বাসন ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে পরিষ্কার করার অভ্যাস মস্তিষ্ককে একটি কাজের ওপর স্থির থাকতে প্রশিক্ষণ দেয়। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।
ইন্দ্রিয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ
বাসন ধোয়ার সময় হাতের ওপর পানির স্পর্শ, সাবানের ফেনা, পরিষ্কার বাসনের শব্দ কিংবা হালকা সুগন্ধ-এসব অনুভূতি ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় রাখে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা মানুষকে বর্তমান মুহূর্তে ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে অস্থিরতা কমে এবং মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়।
অল্প সময়েই মিলতে পারে উপকার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যস্ত জীবনে আলাদা করে বিশ্রামের সময় বের করা অনেকের জন্য কঠিন। তবে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সচেতনভাবে বাসন ধোয়ার সময়টুকুও মানসিক বিশ্রামের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এতে যেমন রান্নাঘর পরিষ্কার হয়, তেমনি মনও কিছুটা হালকা হয়ে ওঠে।
বাসন ধোয়ার সময় তাড়াহুড়া না করে ধীরে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হাতের ওপর পানির উষ্ণতা বা শীতলতা অনুভব করা, সাবানের গন্ধ ও ফেনার স্পর্শ লক্ষ্য করা এবং থালা পরিষ্কার হওয়ার দৃশ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া উপকারী হতে পারে। একই সঙ্গে ধীর ও গভীর শ্বাস নেওয়া এবং মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য চিন্তা থেকে কয়েক মিনিট নিজেকে দূরে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক প্রশান্তি পেতে সব সময় আলাদা করে ধ্যান করা বা কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনের সাধারণ কিছু গৃহস্থালি কাজও সচেতনভাবে করলে তা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ জুলাই)
- হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ড. মুজাম্মেল হক
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- আজই নিষিদ্ধ হতে পারে ঢাবির নীল দল
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- বিকাশে মিলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ভাতা