ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে দ্রুত আলোচনার তাগিদ ভারতের সংসদীয় কমিটির

২০২৬ জুলাই ৩১ ১৯:০১:৪৪

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে দ্রুত আলোচনার তাগিদ ভারতের সংসদীয় কমিটির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

সম্প্রতি সংসদে উপস্থাপিত পঞ্চদশ অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটি সতর্ক করে বলেছে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আলোচনা শুরু না হলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

কমিটি বলেছে, পানি বণ্টন শুধু একটি কারিগরি বিষয় নয়; এটি উভয় দেশের কোটি কোটি মানুষের কৃষি, জীবিকা ও সুপেয় পানির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের রাজনীতিতেও এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ইস্যু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করা না গেলে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন দুই দেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে, তখন এ ধরনের বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এর আগে সংসদীয় কমিটি ২০২৬ সালে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আলোচনা শুরুর সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি হালনাগাদ জলবায়ু উপাত্ত, হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভারতের নিজস্ব দরকষাকষির কৌশল প্রস্তুতের জন্য সরকারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।

কমিটির আগের সুপারিশের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গঠিত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি চুক্তির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কাজ করছে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে মন্ত্রণালয়ের এ জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি সংসদীয় কমিটি। প্যানেলটি জানিয়েছে, তিন বছরের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে কি না বা ভারতের প্রস্তাবিত কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে কমিটি। শুধু বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বর্ণনা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ওপর জোর দিয়েছে তারা।

ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ থাকলেও অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে বিলম্ব পুরো কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির দেওয়া ৩৩টি সুপারিশের মধ্যে সরকার ২৫টি গ্রহণ করলেও গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ও নদী সহযোগিতা-সংক্রান্ত বাকি আটটি বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ জবাব পাওয়া যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে কমিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারত আর কেবল পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকের ওপর নির্ভর করতে পারে না। অর্থপূর্ণ আলোচনার সুযোগ দ্রুত সীমিত হয়ে আসছে। কালক্ষেপণ করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু পানি বণ্টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার গহনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর) সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে ২২ ক্যারেট সোনার... বিস্তারিত