×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

‘গানের একটি কলি সমাজে সুনামির চেয়েও বড় তরঙ্গ তৈরি করতে পারে’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১২:১২:৫০

‘গানের একটি কলি সমাজে সুনামির চেয়েও বড় তরঙ্গ তৈরি করতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: গান বা গানের একটি কলিও সমাজ ও রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বড় তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোনো আন্দোলনকে সফল করতে সাংস্কৃতিক বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, একটি গান বা গানের কলি সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বড় তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা’, ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ এ ধরনের গানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি গান মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে।

আসামের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সেখানে একটি গানের কারণে একজন শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কারণ, সে সময় সেখানে কট্টরপন্থী সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাঁর মতে, একটি গান ও একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি পরমাণু বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। এই শক্তি স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মী বাহিনী যেই রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে থাকবে না, সেই আন্দোলন কখনোই সফল হবে না। এটা হচ্ছে বড় বড় মনীষীদের কথা। প্রতিটি বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি বিপ্লবে মূল সৈনিক হচ্ছে সাংস্কৃতিক বাহিনী। সাংস্কৃতিক বাহিনী হচ্ছে প্রত্যেকটি আন্দোলনের অগ্রগামী, অগ্রসেনানী। তারা যদি সুসংগঠিত না থাকে, তাহলে আন্দোলন সফল হয় না।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টদেরও কিন্তু সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী থাকে। হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসকের অনেক বড় বড় সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী ছিল। কিন্তু শিল্পী হলেই যে মানবতাবাদী হবে, তা তো নয়। আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছে এবং বহু চক্রান্তের মধ্যে তারা জড়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, হুমায়ূন আহমেদের ছোট স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে?’

রিজভী উল্লেখ করেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই তাঁর মন উদার ও মানবতাবাদী হবে এমনটা নয়। তাঁর মতে, ‘সেই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, যার মধ্যে নজরুলের গুণাবলি রয়েছে। গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাহি মহীয়ান।’

তিনি আরও বলেন, ‘নজরুলের গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার ভেতরে আছে, সেই হবে প্রকৃত অর্থে শিল্পী। ওরা না। অনেক শিল্পীর মধ্যে সেগুলো না থাকলে তারা ফ্যাসিস্টের দোসর হতে পারে। তা না হলে আহনাফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ, এদের যে মহিমান্বিত আত্মদান, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরানো, সাদা শার্ট রক্তে লাল হওয়া, কিন্তু ওরা দেখেনি। তাদের চোখ দিয়ে তারা দেখেনি। ওরা কত বদ্ধ ও কত সঙ্কীর্ণ যে, একই দেশের মানুষ হয়ে তারা একটা ভয়ঙ্কর ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছে।’

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, শাম্মী আক্তার ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংস্থাটির সদস্য খালেদ এনাম মুন্না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত