ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম দমনে ‘জিরো টলারেন্স’, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ৩০ ১৩:২০:৩৬

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম দমনে ‘জিরো টলারেন্স’, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন স্ক্যাম নেটওয়ার্ক দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বর্তমানে মানবপাচারের কৌশল আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল হয়ে উঠেছে। অপরাধীরা ভুয়া অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরে তাদের বিদেশে নিয়ে অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে শুধু প্রচলিত আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং সমাজের সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (ইউএনটিওসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের আলোকে প্রণীত এ আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে সম্পৃক্ত করার মতো নতুন অপরাধগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ হালনাগাদের কাজ চলছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার এবং অংশীদারিত্ব—এই চারটি ভিত্তিকে কেন্দ্র করে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সেবা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও কেস ট্র্যাকিংয়ের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে।

নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে তরুণ সমাজ, নারী এবং বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডেসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সরকার বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ও অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত