ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
ফাইনালের মারামারিতে ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া বিরূপ আচরণের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে কী ঘটেছিল, তা মূল্যায়নের জন্য ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে।
তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা কোচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রোববার স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপন শুরু করলে আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও সহায়ক স্টাফের সঙ্গে স্পেনের ফুটবলারদের বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার সম্পৃক্ততা দেখা যায়। শুরুতে ফিফা জানায়, স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলায় ধাক্কা দেওয়ার কারণে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পারেদেসকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন।
তবে কিছু সময় পর সেই লাল কার্ডের তথ্য নথি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। ফিফা পরে বিবিসি স্পোর্টকে নিশ্চিত করে, তখন পারেদেসের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর আগে অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।
এর আগেই ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির সমর্থনে একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় দলটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ফিফা।
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে লুটিয়ে পড়েন। অন্যদিকে স্পেনের ফুটবলাররা উল্লাসে মেতে ওঠেন। অতিরিক্ত সময়ে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার পর রদ্রি ডাগআউট থেকে ছুটে এসে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডারকে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বাহু বা পেটে ঘুষি মারতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকেই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়।
পরে মোলিনা ও রদ্রির মুখোমুখি অবস্থান, এরিক গার্সিয়াকে সমর্থন দিতে এগিয়ে আসা, পারেদেসের গলায় আঙুল দিয়ে খোঁচা দেওয়া, গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়া এবং রবার্তো আয়ালার আচরণ—সব মিলিয়ে মাঠে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
বিবিসি ওয়ানের সম্প্রচারে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলেন, পারেদেস কয়েকজনের মুখের দিকে দুই বা তিনটি জোরালো ঘুষি ছুড়ে মেরেছেন। তার ভাষায়, হার মেনে নেওয়ারও একটি পদ্ধতি আছে এবং শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ।
সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। এমন আচরণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তবে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, জয়ের সময় যেমন উদার থাকতে হয়, পরাজয়ের সময়ও তেমন উদার থাকা উচিত। ম্যাচ হেরেছেন, সেটি তারা মেনে নিয়েছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, দল এখানে পৌঁছাতে যা করেছে, তা ভুলে যেতে হবে।
ফিফা জানিয়েছে, নিয়োগ পাওয়া শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর শুধু সম্ভাব্য সহিংস আচরণ নয়, অন্যান্য সম্ভাব্য শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনাও পর্যালোচনা করবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় বা জাতীয় ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আপত্তিকর আচরণ ও ফেয়ার প্লে-সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই প্রসিকিউটর অভিযোগের গুরুতর ও লঘু—উভয় দিকই বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও তার রয়েছে। এর আগে স্পেনের সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেসের বিরুদ্ধে জেনি এরমোসোকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজের বিরুদ্ধে একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
যদিও আলমাদা, আয়ালা, মোলিনা ও পারেদেসের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে একাধিকবার শাস্তির মুখে পড়েছে এএফএ। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আপত্তিকর আচরণ ও ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আর্জেন্টিনাকে ১৮ হাজার ৩০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল। তবে তখন কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে চিলি ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আপত্তিকর আচরণের দায়ে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে ইউরো ২০২৪ ফাইনালের পর 'জিব্রাল্টার স্পেনের' স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় স্পেন অধিনায়ক আলভারো মোরাতা ও রদ্রিকেও এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা।
ফিফা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে চলমান তদন্ত শেষ করতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট