ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

‘জেড’ ক্যাটাগরির উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারদরে অলৌকিক উত্থান

২০২৬ জুলাই ০৬ ২০:৪৯:০৪

‘জেড’ ক্যাটাগরির উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারদরে অলৌকিক উত্থান

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের শেয়ারবাজারে বিবিধ খাতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ব্যবসায়িক কোনো অগ্রগতি বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ছাড়াই বাজারে এই কোম্পানির শেয়ারের দাম টানা বাড়ছে। উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারের এমন রহস্যজনক আচরণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে কৌতূহল সৃষ্টি করার পাশাপাশি বড় ধরনের উদ্বেগেরও জন্ম দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভিত্তি ছাড়া এ ধরনের কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য চরম পুঁজিনাশের কারণ হতে পারে।

তবে শেয়ারদরের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত বা সংবেদনশীল ভেতরের তথ্য নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কোম্পানির ব্যবসায়িক বা আর্থিক এমন কোনো নতুন সিদ্ধান্ত বা তথ্য তাদের কাছে নেই, যা শেয়ারের বাজারে এই ধরনের বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

বাজার চিত্র অনুযায়ী, শেয়ারের দাম এবং দৈনিক লেনদেনের ভলিউম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত ২ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটির কাছে এর কারণ জানতে চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। এর জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে—বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই, যা শেয়ারের বাজারমূল্য বা লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, মাঠপর্যায়ে কোম্পানির স্বাভাবিক কার্যক্রমে এমন কোনো নাটকীয় বা ইতিবাচক বদল আসেনি, যা এই দরবৃদ্ধিকে যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত মাত্র দুই সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দ্রুততম গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ২২ জুন বাজারে উসমানিয়া গ্লাসের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল মাত্র ৩৭ টাকা ৩০ পয়সা। অথচ আজ ৬ জুলাই লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকা ৭০ পয়সায়। ফলে মাত্র কয়েক কার্যদিবসের ব্যবধানে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৯ টাকা ৪০ পয়সা বা প্রায় ৫২ দশমিক ০১ শতাংশের বেশি।

দাম বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদলের পরিমাণও জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। কোনো কোনো ট্রেডিং সেশনে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণত শেয়ারবাজারে কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এমন আকস্মিক লেনদেনের তীব্রতা প্রায়শই কৃত্রিম চাহিদা বা সিন্ডিকেটের কারসাজিকে ইঙ্গিত করে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন মাত্র ১৭ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বাজারে কোম্পানির মোট শেয়ারের সংখ্যা ১ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৯০০টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫১ শতাংশ রয়েছে সরকারের হাতে। এছাড়া কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং সাধারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পকেটে রয়েছে বাকি ৩২ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

স্বর্ণের দাম কমেছে, ভরিতে কত?

স্বর্ণের দাম কমেছে, ভরিতে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই দফা দাম বাড়ানোর পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন... বিস্তারিত