ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
কোচিং সেন্টার চালাতে লাগবে সরকারি অনুমতি: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: কোচিং সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে পারে না, তখনই কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষার্থীদের সময় যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে।
বুধবার (১ জুলাই) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে, যাতে তারা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ইন-হাউস কোচিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে পারেন। একই সঙ্গে কোচিং সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রেও অনুমোদন, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের সেভাবেই প্রস্তুত করব, যাতে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ইন-হাউস কোচিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আমরা ক্যাটাগরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তদারকির ব্যবস্থা নেব।’
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা শুধু নামিদামি স্কুলের কথা বলব না। দেখা যায়, অনেক নামিদামি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও অন্য প্রতিষ্ঠানের কোচিং বা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। এটি হতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয় ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে যারা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করবেন, তাদেরও সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।’
কোচিং সেন্টারের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা যে কোচিং সেন্টারে যাবে, সেখানে ফায়ার এক্সিট আছে কি না, পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত কি না, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ করা হচ্ছে কি না—এসব নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কেউ ইচ্ছামতো একটি গ্যারেজে কোচিং সেন্টার খুলে বসতে পারবেন না। সবকিছুই একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। এভাবে আর চলতে পারে না।’
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আমরা ভিসিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এগুলো নীতিগত বিষয়। ভর্তি শুরুর আগেই আপনারা দেখতে পাবেন আমরা কী ধরনের সমন্বয় করছি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এসএসসি পরীক্ষার তারিখ আমরা অনেক আগেই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘোষণা করেছি। তখনও বলেছিলাম, যদি স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়, সেটিও আমরা দেখব। কিন্তু আমরা দেখেছি, সবাই একমত হয়েছেন। সে কারণেই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিনও আমরা প্রায় দেড় বছর আগেই প্রকাশ করেছি, যাতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলোও আমরা এমনভাবে সমন্বয় করার চিন্তা করছি, যাতে কোনো ধরনের সেশনজট সৃষ্টি না হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। ইনশাআল্লাহ, ফল প্রকাশের পর আমাদের কর্মসূচি কী হবে, সেটিও আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।’
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, যেখানে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, এসএসসি পরীক্ষার সময়ও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং স্থানীয় প্রশাসন তা সফলভাবে সামাল দিয়েছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি
- স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান
- রোববার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ
- তেজগাঁও কলেজে মঞ্চে উঠছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’
- বাংলাদেশ স্কাউটসে নবম গ্রেডে চাকরির সুযোগ
- ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- বোর্ড সচিব বাবা, টেনেটুনে পাস করা ছেলের ফল জিপিএ-৫
- টাকার বিনিময়ে ১২০০ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন
- বাসায় ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে হ'ত্যা