ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

চোখের ছানি প্রতিরোধে মেনে চলুন ৫ অভ্যাস

২০২৬ জুন ১৬ ২০:৪২:৫৬

চোখের ছানি প্রতিরোধে মেনে চলুন ৫ অভ্যাস

ডুয়া ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চোখে ছানি পড়াকে চিহ্নিত করা হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হলেও অনেকেরই অজানা থেকে যায় যে, দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস ছানির ঝুঁকি বাড়াতে বা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক জীবনযাপন ও সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, চোখের ভেতরের স্বচ্ছ লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে ছানি তৈরি হয়। এতে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আলোর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা দেখা দেয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও বয়স বাড়া এ রোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ, তবে জীবনযাপনের অভ্যাসও এর অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা ছানি প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে চোখকে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ছানি পড়ার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বাইরে বের হলে ১০০% UVA ও UVB রশ্মি প্রতিরোধকারী সানগ্লাস ব্যবহারের পাশাপাশি চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চোখের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাসকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফার্মাকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার বরাতে বলা হয়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার যেমন পালং শাক, কেল, কমলা ও আমের মতো ফল এবং ভিটামিন সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার চোখের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি স্যামনের মতো মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।

ধূমপান পরিহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ছানি পড়ার ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ বেশি। ধূমপানের ফলে রক্তে বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করে, যা চোখের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা কমিয়ে লেন্সের ক্ষতি দ্রুততর করে।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে চোখের লেন্সে পরিবর্তন ঘটে, যা ছানি পড়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার বিষয়টিকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে ছানি, গ্লুকোমা ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয় এবং দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের প্রতি দুই বছর অন্তর এবং ৬০ বছরের পর প্রতি বছর চক্ষু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত