ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফের বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

২০২৬ জুন ০৬ ১৯:৫০:১১

ফের বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সীমিত সামরিক উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়নি এমন মূল্যায়নে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্কগুলোতে এই দরপতন লক্ষ্য করা যায়। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, শুক্রবারের (৫ জুন) সামরিক উত্তেজনা বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে না এমন আশাবাদ থেকেই বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়।

তেল ও জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৯৪ ডলার বা ২.০৪ শতাংশ কমে ৯৩.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যান্য তেলের মধ্যেও দরপতন দেখা গেছে। মারবান ক্রুডের দাম ৩.০২ শতাংশ কমে ৯০.৬৮ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৮০.৬৯ ডলারে নেমেছে। এ সময় প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামও কমেছে, তবে গ্যাসোলিনের দাম সামান্য ০.২৫ শতাংশ বেড়েছে।

শুক্রবার ভারত মহাসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ এবং ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে হুমকি তৈরি করেছিল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় রাডার সাইটে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়।

এছাড়া মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এবং ইরানের ‘ঘোস্ট ফ্লিট’-এর অংশ ‘এমটি ডভিনা’ নামের একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ২০২৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞায় থাকা এই জাহাজটি অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনে পাচার করছিল। তবে এসব অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে যায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করায় দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, যা বছরের শুরুতে তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে নিয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনা এখনো তৈরি হয়নি। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে পড়ছে না এই ধারণাই বর্তমানে বাজারে দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত