ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
কারণ ছাড়াই ১৩৫% দাম বাড়ল হামিদ ফেব্রিক্সের! নেপথ্যে কি কারসাজি?
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি হামিদ ফেব্রিক্স পিএলসির শেয়ারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।
বিশেষ করে কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ ছাড়াই চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যেমন কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে এই লাগামহীন দরবৃদ্ধির পেছনে ভেতরের কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
শেয়ারের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত ২৪ মে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটির কাছে এর কারণ জানতে চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। এর জবাবে হামিদ ফেব্রিক্স আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো ব্যবসায়িক বা অপ্রকাশিত তথ্য নেই, যা শেয়ারের দাম কিংবা লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানির উৎপাদন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থানে এমন কোনো ইতিবাচক বা নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেনি, যা এই আকাশচুম্বী দরবৃদ্ধিকে সমর্থন করে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত তিন মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দ্রুত ওপরে উঠে গেছে। চলতি বছরের ৮ মার্চ বাজারে হামিদ ফেব্রিক্সের প্রতি শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ৭ টাকা ৪০ পয়সা। অথচ গত ২৩ মে সেই শেয়ারেরই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ টাকা ৪০ পয়সায়। ফলে তিন মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১০ টাকা, যা শতকরা হিসাবে ১৩৫ দশমিক ১৩ শতাংশের বেশি।
মূল্যবৃদ্ধির সমান্তরালে বাজারে এই শেয়ারটির লেনদেনের পরিমাণও নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। কোনো কোনো কার্যদিবসে দৈনিক লেনদেনের মাত্রা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত স্বল্প মূলধনী কিংবা দুর্বল কোম্পানির ক্ষেত্রে লেনদেনের এমন তীব্রতা প্রায়শই কৃত্রিম চাহিদা তৈরি বা কারসাজির ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া হামিদ ফেব্রিক্স পিএলসির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যার মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৩১২টি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কোম্পানিটির ৫১ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে, ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং বাকি ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পকেটে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)