ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশে টিকার ঘাটতি নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১৯:২৬:৫৩

দেশে টিকার ঘাটতি নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে টিকা সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। টিকাদান কর্মসূচি স্বাভাবিক গতিতে চলছে বলেও তিনি জানান এবং ভবিষ্যতে টিকা সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে আগামী ছয় মাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ৬০ দিন আগেই পরবর্তী ছয় মাসের চাহিদা নির্ধারণ ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।

বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জুন মাস পর্যন্ত বিসিজি টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামও প্রস্তুত আছে। তবে মে মাসে ০.০৫ মিলি বিসিজি সিরিঞ্জের কিছু ঘাটতির আশঙ্কা থাকলেও ইউনিসেফের সহায়তায় ইতোমধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে আংশিক সরবরাহ পাওয়া যাবে এবং মে মাসের মধ্যেই পুরো চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া হাম ও র‌্যাবিস টিকা নিয়েও কোনো সংকট নেই বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের শর্ত শিথিল করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়মিত সরবরাহ দিচ্ছে। একই সঙ্গে এন্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

টিকা সংকট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু মহল অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ ধরনের তথ্য যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ছিল বিশৃঙ্খল অবস্থায়, যেখানে তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও জনস্বার্থে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঘাটতি ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে টিকা কার্যক্রমকে একটি কার্যকর ও সহায়ক অবস্থায় নিয়ে আসা সহজ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ, গ্লোবাল হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও গ্যাভির সহযোগিতায় এবং করোনাকালীন অব্যবহৃত তহবিল ব্যবহার করে টিকা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করে কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিতে সময় লাগবে, তাই টিকাদান কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটাতে তাদের সেবা অব্যাহত রাখা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং ইপিআই কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ