ঢাকা, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

জ্বালানি সংকটের গুজব ও প্যানিক বায়িং রুখতে বিপিসির উদ্যোগ

২০২৬ মার্চ ০৬ ১৮:৩০:২১

জ্বালানি সংকটের গুজব ও প্যানিক বায়িং রুখতে বিপিসির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নেতিবাচক সংবাদের প্রভাবে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বাজারে তেলের কৃত্রিম চাহিদা ও গ্রাহকদের অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা রুখতে এবার যানবাহনভেদে তেল সরবরাহের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবুও ‘জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ’ প্রচার হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ‘বাফার স্টক’ বা পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলতে সাময়িকভাবে এই রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে মোটরসাইকেলের জন্য ট্রিপ প্রতি সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং প্রাইভেট কারের জন্য ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল বরাদ্দ করা হয়েছে। এসইউভি, জিপ বা মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ লিটার। অন্যদিকে লোকাল বাস বা পিকআপের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বড় ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হবে। কোনোভাবেই ‘বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না’ বলে ডিলারদের সতর্ক করা হয়েছে।

তেল সংগ্রহের প্রক্রিয়াতেও আনা হয়েছে স্বচ্ছতা। এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে অবশ্যই ‘তেলের ধরণ, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ’ নিতে হবে। এমনকি পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় ‘পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ বা বিলের মূল কপি’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিলাররা এই নির্দেশনা মেনেই কেবল ভোক্তা পর্যায়ে তেল সরবরাহ করবেন। এছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলো তাদের মজুত ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত ডিপোতে প্রদান করবে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, সরকার প্রতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে মূল্য নির্ধারণ করে এবং বর্তমানে ‘মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার কোনোরকম সিদ্ধান্ত নেয়নি’। তাই সংকটের কথা বলে ‘অতিরিক্ত মূল্য আদায় আইনগত অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। জনমনে আতঙ্ক দূর করতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত