×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

রমজানের প্রথম শুক্রবারেই মাছ ও মাংসের বাজারে চরম অস্থিরতা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৩:০৫:৪০

রমজানের প্রথম শুক্রবারেই মাছ ও মাংসের বাজারে চরম অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম শুক্রবার ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে মাছ ও মাংসের দামে আগুনের আঁচ লেগেছে। ইফতার ও ছুটির দিনের বিশেষ আয়োজনের জন্য ক্রেতাদের ভিড় বাড়তেই সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রোটিনের জোগান। বিশেষ করে সোনালি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে মুরগির বাজারে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৫০-৬০ টাকা বেড়ে ৩৪০ টাকায় ঠেকেছে। গত সপ্তাহের ১৮০ টাকার ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। এ ছাড়া লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুরে বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শীতের শেষ সময়, সামনে রোজা-বিয়ে, দাওয়াত, ইফতার মাহফিল সব মিলিয়ে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি। খামার থেকেও দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম অবশ্য আগের মতোই চড়া প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা। বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাসান ফারাবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরেক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহেও যে রুই মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৪০০ টাকার ওপরে। মুরগির দামও বেড়েছে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

মাছের বাজারে মাঝারি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খিলক্ষেতের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘নদীর দেশি মাছ এখন কম। বেশির ভাগই চাষের মাছ। পরিবহণ খরচ, বরফের দাম, সব মিলিয়ে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা খুব বেশি লাভ রাখছি না, কিন্তু পাইকারি দামের কারণে খুচরায় একটু বাড়তি পড়ছে।’ আজিমপুর এলাকার খায়রুল মিয়া বলেন, ‘রোজার মুরগির মাংসটা একটু বেশি লাগে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম বাড়তি। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। ডিম কিছুটা স্বস্তি দিলেও অন্য জিনিসে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।’

যদিও আমিষের দাম আকাশছোঁয়া, তবে সবজির বাজারে কিছুটা মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কুমড়া প্রতি কেজি ১৬-২০ টাকা এবং মুলা ১২-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ইফতারের অপরিহার্য উপাদান বেগুন, শশা ও লেবুর দাম যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতি হালি লেবু এখন ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। স্বস্তির খবর কেবল ডিমের বাজারে; এক ডজন ডিম আগের মতোই ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের সরবরাহ ঠিক থাকায় আপাতত দাম বাড়েনি।

রমজানের শুরুতেই বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার যথাযথ মনিটরিং না হলে রোজার বাকি দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত