ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

ভোটের আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা চলাচল বন্ধ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৯:৫৮:১৬

ভোটের আগে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের সময়ে ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার পাশাপাশি প্রতিটি চেকপোস্টে পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি কঠোরভাবে চালানো হবে।

ইসি নির্বাচনী ঝুঁকি মূল্যায়নের পর কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর তথ্য অনুসারে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এই ঝুঁকি এড়াতে ক্যাম্পে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ভোটকেন্দ্রে কোনো পক্ষ রোহিঙ্গাদের ব্যবহার বা জাল ভোট প্রতিরোধে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দিষ্ট ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে—

সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার

অর্থের বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান বা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে উসকানিমূলক বার্তা প্রচার (যেমন RCPR, Ro-FDMN RC)

সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি (ARSA, RSO, আরাকান আর্মি)

নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

১. চলাচলে নিষেধাজ্ঞা:

নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বের হওয়া বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পের ভেতরে সব ধরনের যানবাহন, যেমন সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

২. বাজার ও এনজিও নিয়ন্ত্রণ:

বালুখালী, লেদা ও নয়াপাড়া ক্যাম্পসংলগ্ন বড় বাজারগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এছাড়া এনজিও কর্মীদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত করা হবে।

৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ:

ক্যাম্পের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালানো হবে।

৪. যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত:

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্ট মোতায়েন থাকবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী মোতায়েন:

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোট গ্রহণে দায়িত্বে থাকবেন—

৬৯ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯৮ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা

৪২,৭৭৯ প্রিজাইডিং অফিসার, ২,৪৭,৪৮২ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার

৪,৯৫,৭৬৪ পোলিং অফিসার

পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫,০০০ কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত