ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
পেশা-বহির্ভূত চাপে ভেঙে পড়ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বদলে নানা পেশা-বহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক এখন তীব্র মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির মুখে। এক গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রাথমিক স্তরের প্রায় সব শিক্ষকই দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্লান্তিতে ভুগছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের শেখা ও ফলাফলের ওপর।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) পরিচালিত ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশা-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৯২ দশমিক ৬৯ শতাংশ শিক্ষক দীর্ঘমেয়াদি বার্নআউট বা কর্মক্লান্তিতে আক্রান্ত। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষক পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। গবেষণা বলছে, এই মানসিক চাপ ও ক্লান্তি সরাসরি শিক্ষার্থীদের শিখনফল ও একাডেমিক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই চাপের বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। গবেষণার হিসাবে, পেশা-বহির্ভূত কাজে বছরে প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ শিক্ষক শ্রম নষ্ট হচ্ছে। একজন সহকারী শিক্ষক মাসে গড়ে ৪ হাজার ১১৬ টাকার সমপরিমাণ সময় নন-প্রফেশনাল কাজে ব্যয় করেন। সারাদেশে সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই ব্যয় বছরে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ১০৭ কোটি টাকার বেশি।
উপাত্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের তুলনায় আরও বেশি সময় (গড়ে ২৭ দশমিক ৭৪ ঘণ্টা) পেশা-বহির্ভূত কাজে ব্যয় করছেন। মানসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ২১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯২ দশমিক ৬৯ শতাংশই ‘লেট-স্টেজ বার্নআউট’-এর মতো গুরুতর মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে প্রতিটি বিদ্যালয়কে কার্যত একটি অটোনোমাস বডির মতো পরিচালিত করতে হবে। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনেক স্কুল ভালো শিক্ষা দিচ্ছে, যা মূলত দক্ষ নেতৃত্ব ও টিমওয়ার্কের ফল।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা আর্থিকভাবে খুব বেশি সুবিধা না পেলেও যেসব স্কুলে ভালো শিক্ষা নিশ্চিত হয়, সেখানে সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান বাড়ে। যোগ্য প্রধান শিক্ষকরা অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে দলগতভাবে কাজ করলে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করে উপদেষ্টা বলেন, ডিজিটালাইজেশনের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় তথ্য হালনাগাদ নেই। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও ব্যবস্থাপনায় ফাঁক থেকে যাচ্ছে। যথাযথভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে শিক্ষকদের সময় সাশ্রয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- মাসিক ১,৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ডসহ ইউরোপে মাস্টার্সের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)