ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

ঋণ কেলেঙ্কারি: রিমান্ডে সালমান এফ রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ 

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৬:৪৮:৩১

ঋণ কেলেঙ্কারি: রিমান্ডে সালমান এফ রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে সালমান এফ রহমানকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়। দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রোববার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন।

মামলার এজাহারে সালমান এফ রহমানের ভাই এ এস এফ রহমান, ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং এ এস এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক, রীম এইচ শামসুদ্দোহা ও এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরীকে অভিযুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া জনতা ব্যাংকের তৎকালীন সিইও আব্দুছ ছালাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও উপব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সহ-ব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক এজিএম শাজাহান ও মো. হুমায়ুনি কবীর ঢালী, সাবেক ম্যানেজার শ. ম. মাহাতাব হোসেনসহ একাধিক কর্মকর্তা মামলার আসামি হয়েছেন।

মামলায় আরও আসামি করা হয়েছে কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান খান, পরিচালক সৈয়দ তানভীর এলাহী, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেডের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন করান। পরে এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমডেশন বিল তৈরি করে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেড একটি নবগঠিত প্রতিষ্ঠান এবং এর পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনায় পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(৩) ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন