ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন ঘিরে সংযমী আচরণের আহ্বান উপদেষ্টা রিজওয়ানার

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১৬:১৮:০০

নির্বাচন ঘিরে সংযমী আচরণের আহ্বান উপদেষ্টা রিজওয়ানার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা থাকলেও সেটি যেন শালীনতা ও আইনের সীমা অতিক্রম না করে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা, আর প্রতিযোগিতা মানেই উত্তেজনা। এক দল জয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে, অন্য দল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে চাইবে—এটাই স্বাভাবিক রাজনীতি। এ কারণে বক্তব্য-বিবৃতিতে আক্রমণাত্মক ভাষা থাকলেও তা যেন সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়।

তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ভদ্রতা ও সভ্যতার সীমা মানা হচ্ছে না—এটি উদ্বেগজনক। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে রূপ না নিচ্ছে, ততক্ষণ কে কোন সভায় কী বলল, সেটি সরকারের হস্তক্ষেপের বিষয় নয়। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর নির্বাচনসংক্রান্ত মন্তব্য প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচন একটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। আগেভাগে কে জিতবে বা হারবে—এমন মন্তব্য করলে তা বস্তুনিষ্ঠ থাকে না।

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে—সরকারের এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ভোটের শিডিউল ঘোষণার দিনই বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এর ভুক্তভোগী আমরা নিজেরাও হয়েছি। ফলে পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, সরকার তা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

কিছু জেলায় জেলা প্রশাসকদের গণভোটের পক্ষে সক্রিয়তা কম—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপদেষ্টারা ইতোমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় গিয়ে সুশীল সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। গণভোটের উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু জনগণকে বোঝানো হয়েছে। এখন যেহেতু নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে, তাই উপদেষ্টারা আর মাঠপর্যায়ে যাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসকদের কাজ হলো ভোটের দিন সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট হবে—এই তথ্য জনগণকে জানানো। এর বাইরে প্রচারণামূলক কোনো ভূমিকা তাদের নেই।

ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে—এমন বক্তব্যের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, তিনি নিজে বহু জেলায় গিয়ে নির্বাচনমুখী একটি উৎসবমুখর পরিবেশ দেখেছেন। কোথাও কেউ ভোট দিতে ভয় পাচ্ছেন—এমন অভিযোগ তিনি শোনেননি। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে এমন তথ্য দিলে সরকার অবশ্যই সেই ভয় দূর করার দায়িত্ব নেবে।

শেষে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভিত্তিহীন বক্তব্য ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে। নির্বাচন বানচালের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত