ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

৪৮তম বিশেষ বিসিএস থেকে একযোগে ৩২৬৩ জনের চাকরি

২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৬:২৭:৪৬

৪৮তম বিশেষ বিসিএস থেকে একযোগে ৩২৬৩ জনের চাকরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার মাধ্যমে একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের চাকরিতে যোগদান, প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিস্তারিত শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা–২০২৫ এর মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের গত ২৯ সেপ্টেম্বর ও ২৭ অক্টোবর পাঠানো চিঠির আলোকে এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচিত কর্মকর্তারা জাতীয় বেতনস্কেল–২০১৫ অনুযায়ী মাসিক ২২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতন পাবেন।

নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি চাকরিসংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেশাগত ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের প্রাথমিকভাবে দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এই শিক্ষানবিশকাল সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালীন সময়ে কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।

শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন ও বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিতে বহাল করা হবে। একই সঙ্গে ফলাফলের ভিত্তিতেই তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।

চাকরি থেকে ইস্তফার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদন দেওয়ার আগে যদি কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তার কাছে সরকারের প্রাপ্য সব অর্থ আদায় করা হবে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে বিরূপ বা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আদেশ সংশোধন বা বাতিলের অধিকার সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা এমন অঙ্গীকারে আবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

চাকরিতে যোগদানের সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে যৌতুক না নেওয়া ও না দেওয়ার অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের সনদ যাচাইয়ে জাল প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাকরিতে যোগদানের জন্য কোনো ধরনের ভ্রমণ বা দৈনিক ভাতা প্রদান করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত