ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত সহযোগী রুবেল ৬ দিনের রিমান্ডে

২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৬:১৭:৩৪

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত সহযোগী রুবেল ৬ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. রুবেল আহমেদের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

শুনানির দিন রুবেল আহমেদকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত ১০ দিনের পরিবর্তে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারে গুরুতর জখম এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে, যেখানে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে কয়েকজন আসামির ভারতে পালাতে সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেও এই হামলা চালানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়ে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন।

আগামী ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত