ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

পর্দা নামল ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২১:৩৫:২৮

পর্দা নামল ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের

বিনোদন ডেস্ক: বিশ্বের নানা প্রান্তের গল্প, সংস্কৃতি ও মানবিক বাস্তবতাকে এক পর্দায় তুলে ধরে পর্দা নামল দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসব ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসরের। নয় দিনের এই আয়োজনে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আবারও বৈশ্বিক চলচ্চিত্র মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় এবারের উৎসব। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত উৎসবে ৯১টি দেশের মোট ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসব দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য ছিল এক ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা।

জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, চীনের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিয়াও পেং, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ মার্ক সেরে শার্লেট এবং আঁলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দে ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আহমেদ হাসান সানি।

এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগ। এই বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে কিরগিজস্তানের সিনেমা ‘কুরাক’। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর ক্ষমতাহীনতা ও অধিকারহীনতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এই চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগেই প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বাংলাদেশ জুলাই মেমোরিয়াল প্রাইজ’ অর্জন করেছে।

এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশনে সেরা নির্মাতার পুরস্কার পান আজারবাইজানের পরিচালক এমিন আফান্দিয়েভ (আ লোনলি পারসন মনোলোগ)। কাজাখস্তানের ছবি ‘আবেল’-এর জন্য সেরা অভিনেতা নির্বাচিত হন ইয়ারলান এবং ইরানি চলচ্চিত্র ‘দ্য হাসব্যান্ড’-এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন ফারিবা নাদেরি। সেরা চিত্রনাট্যের স্বীকৃতি পান দাস্তান মাদালেভ ও এইজদা আমাঙ্গেলডে।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রও এবারের উৎসবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে ফিপ্রেস্কি জুরির সেরা পুরস্কার জিতে নেয় মনিরুল হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। একই বিভাগে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে সেরা নির্বাচিত হয় তানহা তাবাসসুমের ‘হোয়াট ইফ’। ট্যালেন্ট সেকশনে ফার্স্ট রানারআপ হয় উম্মিদ আশরাফ পরিচালিত ‘ধ্যাৎ!’ এবং সেকেন্ড রানারআপ নির্বাচিত হয় আবির ফেরদৌস মুখর নির্মিত ‘ইস্পিতে’।

উৎসবের বিভিন্ন বিশেষ সেকশনেও পুরস্কৃত হয় একাধিক চলচ্চিত্র। উইমেন্স ফিল্মমেকার বিভাগে সেরা ফিকশন ফিল্ম নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ার ‘ফ্রম স্ক্রেচ’ এবং সেরা প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে পুরস্কার পায় ‘লিটল সিরিয়া’। শিশুতোষ চলচ্চিত্র বিভাগে বাদল রহমান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে চীনের সিনেমা ‘কুইংটন এন্ড কুইহুয়া’।

এবারের উৎসবের আরেকটি ব্যতিক্রমী দিক ছিল ভেন্যুর সম্প্রসারণ। ঢাকার জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আঁলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কক্সবাজারের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে উন্মুক্ত পরিসরে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় এই আয়োজন দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পায়।

সমাপনী বক্তব্যে উৎসবের ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর আহমেদ মুজতবা জামাল জানান, আগামী আসর ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই আসরটি হবে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের রজতজয়ন্তী বা ২৫তম আয়োজন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত