ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিলের দাবি পরিবেশ সংগঠনগুলোর

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৬:২৫:০৮

ইপিএসএমপি ২০২৫ বাতিলের দাবি পরিবেশ সংগঠনগুলোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি ২০২৫) অবিলম্বে স্থগিত ও পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন। তাদের অভিযোগ, জনগণের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যা অর্থনীতি, পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর নেটওয়ার্ক অ্যাডভাইজার মনোয়ার মোস্তফা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল নিয়মিত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করে একটি দীর্ঘমেয়াদি, বহুমাত্রিক ও উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মনোয়ার মোস্তফা অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মতামতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের আওতায় যেভাবে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, ইপিএসএমপি ২০২৫ ভবিষ্যতেও একই ধারায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়ার কাঠামো তৈরি করছে।

বিডব্লিউজিইডির সদস্যসচিব হাসান মেহেদী বলেন, খসড়া এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো জনশুনানি বা উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ নীতিনির্ধারণের পুনরাবৃত্তি।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (লিড)-এর গবেষণা পরিচালক শিমন উজ্জামান বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে নাগরিক সমাজকে উপেক্ষা করে আবারও আইইপিএমপি ২০২৩-এর মতো একটি বিতর্কিত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা আনার উদ্যোগ হতাশাজনক।

ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের পরিচালক মুনীর উদ্দীন শামীম বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে এবং দেশের রপ্তানি খাতও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে ইপিএসএমপি ২০২৫ স্থগিত ও বাতিল, জনগণ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবসম্মত শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং নবনির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ জানুয়ারি)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১৪... বিস্তারিত