ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২
ইতিহাস গড়ল চট্টগ্রাম বন্দর, সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর নতুন এক আর্থিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। টানা পাঁচ বছরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে বন্দরটি, যা জাতীয় অর্থনীতিতে এর ক্রমবর্ধমান শক্ত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বন্দরের রাজস্ব আয়ে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে। এই সময়কালে রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্ত—উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি জাতীয় সম্পদ। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতায় এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং এই ধারা ধরে রাখতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। একই বছরে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে করপোরেট করের আগে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগের বছর ২০২৪ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ব্যয় ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং উদ্বৃত্ত ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে আয় ছিল ৪ হাজার ১৬৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ব্যয় ২ হাজার ২২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং উদ্বৃত্ত ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০২২ ও ২০২১ সালেও একইভাবে রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি জাতীয় কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ভ্যাট, কর ও কর-বহির্ভূত আয় মিলিয়ে জাতীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর মধ্যে কর বাবদ ৭৯৫ কোটি ৪ লাখ টাকা, ভ্যাট বাবদ ৮০৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) হিসেবে ২০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জাতীয় কোষাগারে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধিই এই সাফল্যের মূল কারণ। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রফতানির প্রধান প্রবেশদ্বার। বন্দরের সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আয়ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, অব্যবহৃত টার্মিনালগুলো পুরোপুরি চালু করা গেলে এবং ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা এলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান আরও শক্তিশালী হবে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম সিলেট টাইটান্সের ম্যাচ-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- ঢাকা বনাম রাজশাহী: ২৩ বল হাতে রেখেই জয়-দেখুন ফলাফল
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলা-সরাসরি দেখুন (LIVE)
- চিকিৎসা জগতের আলোকবর্তিকা ডা. কোহিনূর আহমেদ আর নেই
- সিলেট টাইটানস বনাম রংপুর রাইডার্স- খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বড় পদক্ষেপ নিল বিএসইসি
- বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শ্রদ্ধা
- নির্বাচনের পর বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের
- মিশ্র সূচকের মধ্যেও বাজারে আশাবাদ অব্যাহত
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হলো
- প্রত্যাশার বাজারে সূচকের উত্থান অব্যাহত
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম রংপুর রাইডার্স: জমজমাট খেলাটি চলছে-দেখুন সরাসরি
- রোববার দর পতনের শীর্ষ কোম্পানির ভেতরের গল্প
- ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেন কোম্পানির পরিচালক
- সূচক কমলেও স্বস্তিতে বাজার, লেনদেন বেড়েছে