ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

ইসলামী ঐক্য ভাঙেনি, আলোচনা এখনো চলছে: জামায়াত

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ২০:০৭:২৯

ইসলামী ঐক্য ভাঙেনি, আলোচনা এখনো চলছে: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় কাউকে অসম্মান করা হয়নি এবং এখনো পারস্পরিক আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বাস্তবতা, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি জামায়াতের।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এর আগে একই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নির্বাচনি ঐক্য থেকে সরে এসে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়নি কিংবা কাউকে অসম্মান করা হয়নি। বরং সর্বোচ্চ বাস্তবতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় ধাপে ধাপে আলোচনা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা, প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরিপ পরিচালনা করে। এই প্রক্রিয়ায় আট থেকে ১০টি জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়।

মাহবুব জুবায়ের বলেন, কিছু আসনের বিষয়ে এক দফায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কয়েকটি ইস্যুতে মতভিন্নতা থাকায় সময় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। গত কয়েক দিনে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আসন বণ্টন ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল; কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোক ও সহানুভূতি জানাতেই ওই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতীয় সরকার গঠন বা এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। আলোচনার মূল বিষয় ছিল খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তা নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত রাখা।

জামায়াত শরিয়া আইনের বিপক্ষে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে দলের আমির স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। এ নিয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই।

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট ছিল না; বরং সংস্কার দাবিকে সামনে রেখে আটটি আন্দোলনরত দলের একটি নির্বাচনি ঐক্য প্রক্রিয়া ছিল। সেখানে কোনো আহ্বায়ক বা স্থায়ী কাঠামো ছিল না, সভাপতিত্ব ও বক্তব্যও পর্যায়ক্রমে হয়েছে যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার উদাহরণ।

ইসলামী আন্দোলন সরে দাঁড়ালেও আলোচনার সুযোগ এখনো আছে বলে মনে করে জামায়াত। জুবায়ের বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো রয়েছে। ইসলামী দলগুলো ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্ব পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। জামায়াতের লক্ষ্য ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়া। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেষে মাহবুব জুবায়ের বলেন, গত ১৬ বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। সৌজন্য, শালীনতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর প্রধান লক্ষ্য।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত