ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

গালফ কূটনীতিতে ভেস্তে গেল ইরানে মার্কিন হামলা

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ২১:৪৩:০১

গালফ কূটনীতিতে ভেস্তে গেল ইরানে মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব, ওমান ও কাতার। তিন দেশের সম্মিলিত তৎপরতার ফলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলে দাবি করেছেন সৌদি আরবের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, গালফ অঞ্চলের এই তিন দেশ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানা ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে বোঝানো, ইরানকে ইতিবাচক আচরণ দেখানোর জন্য আরও একটি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সৌদি আরব, ওমান ও কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিল—ইরানে সামরিক হামলা চালানো হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে।

এদিকে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পটভূমিতে ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে শুরু হওয়া আন্দোলন গত বৃহস্পতিবার সহিংসতায় রূপ নেয়। বুধবারও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই দুই দিনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

এই সহিংসতার জের ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই হুমকির তীব্রতাও বাড়তে থাকে।

তবে বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি জানতে পেরেছেন ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। তার বক্তব্যে আগের অবস্থান থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সৌদি কর্মকর্তা আরও বলেন, গালফ দেশগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল এই অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য অস্থিরতা ঠেকানো। যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল, ইরানে হামলা হলে এর ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে নাড়িয়ে দেবে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলে আরও বোমা হামলা ঠেকাতে এটি ছিল এক নিদ্রাহীন রাত। যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং যে ইতিবাচক পরিস্থিতি এখন বিদ্যমান, সেটিকে স্থায়ী করতে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো চলমান রয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত