ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও নেপাল

২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৫:৫৫:০৫

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও নেপাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিতে ঢাকা ও কাঠমান্ডুর মধ্যে আবারও সক্রিয় হলো কূটনৈতিক তৎপরতা। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক, যেখানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সংযোগ জোরদারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উঠে আসে।

গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সভায় বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এবং নেপালের বাণিজ্য সচিব ড. রাম প্রসাদ ঘিমিরের নেতৃত্বে নেপালি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

বৈঠকে উভয় দেশের বাণিজ্য সচিবরা বাংলাদেশ-নেপালের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার এই ইতিবাচক ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে বিভিন্ন নীতিগত ও কারিগরি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ট্যারিফ ও প্যারাট্যারিফ হ্রাস, নন-ট্যারিফ বাধা দূরীকরণ, পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং পেমেন্ট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের বিষয়গুলো। পাশাপাশি বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কার্যকর ট্রানজিট সুবিধা বাস্তবায়নের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

এ ছাড়া পর্যটন খাতের উন্নয়ন, বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনুসন্ধান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনাও আলোচনায় স্থান পায়।

সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পিটিএ-এর ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন এবং পণ্যের তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পণ্যের আওতায় পিটিএ কার্যকর করে পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।

এ লক্ষ্যে আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটির বৈঠক আয়োজন করে পিটিএ সংক্রান্ত সব খসড়া নথি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উভয় পক্ষ পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলা এবং নন-ট্যারিফ বাধা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে একমত হয়। সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য বিশেষ প্রচারণার মাধ্যমেও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত