ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

আসন সমঝোতা নিয়ে চরম দ্বন্দ্বে জামায়াতের ১১ দলীয় জোট

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৪:৪০:৪৪

আসন সমঝোতা নিয়ে চরম দ্বন্দ্বে জামায়াতের ১১ দলীয় জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন সমঝোতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট। দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বৈঠকের পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় জোট ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কঠোর অবস্থানের কারণে জামায়াতের নেতৃত্ব চরম চাপে রয়েছে।

জোট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অচলাবস্থার মূল তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রথমত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতিরিক্ত আসন দাবি করছে। দলটির দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে, তাই তারা জামায়াতের প্রস্তাবিত ৪০ আসনের বাইরে আরও আসন চাচ্ছে। যদিও জামায়াত কিছু অতিরিক্ত আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতেও দলটি রাজি হয়নি।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলটি বাস্তব সক্ষমতার তুলনায় বেশি আসনের দাবিদার। ফলে জামায়াতের সঙ্গে তাদের চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এর ফলে এই দুই দল আলাদা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিতে পারে, যা পুরো পরিস্থিতিকে চরমোনাইয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।

তৃতীয়ত, জোটে নতুন তিন দলের যুক্ত হওয়ায় শক্তির ভারসাম্য বদলে গেছে। পূর্বে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত আট দলীয় ইসলামি জোটে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যোগ হওয়ায় ইসলামি দলের মধ্যে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে এনসিপি-কে ৩০টি আসন দেওয়ার কারণে জামায়াতের সঙ্গে অন্যান্য দলগুলোর দরকষাকষির ক্ষমতা কমেছে।

এর পাশাপাশি প্রাথমিক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে জামায়াত কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় সমঝোতা না হলে কীভাবে এই আসনগুলো সমন্বয় করা হবে, তা জোটের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

আগের আট দলীয় ইসলামি জোটের তুলনায় নতুন তিন দলের যুক্ত হওয়ায় মনোমালিন্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত জোটগত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলেও প্রার্থী সংখ্যায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি, খেলাফত আন্দোলনকে ১০টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনের আসন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত