ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

এবার থালাপাতির পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৭:০৪:১৪

এবার থালাপাতির পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী

নিজস্ব প্রতিবেদক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সিনেমাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। তাঁর অভিনীত ছবি ‘জন ন্যায়াগন’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর প্রকাশ্য সমর্থন শুধু সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রশ্নই নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সমর্থন ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে—ক্ষমতাসীন ডিএমকের সঙ্গে জোট বজায় রেখেও কংগ্রেস কি বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কড়গম (টিভিক)-এর দিকে কৌশলগতভাবে এগোচ্ছে?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) মাধ্যমে ‘জন ন্যায়াগন’-এর মুক্তি বিলম্বিত করার চেষ্টা তামিল সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাইলেও তামিল জনগণের কণ্ঠস্বর দমন করতে পারবেন না।

এই মন্তব্য রাহুল গান্ধীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা, যেখানে তিনি দাবি করে আসছেন—বিজেপি ও আরএসএসের চাপের মুখে দেশের বিভিন্ন জাতীয় প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। মন্তব্যের সময়টিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ভিয়েতনাম সফর শেষে প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি হিসেবে পঙ্গলের দিনে নীলগিরির গুডালুরে উপস্থিত ছিলেন রাহুল, সেদিনই তিনি এই বার্তা দেন। ফলে বক্তব্যটি রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতীকের রূপও নেয়।

‘জন ন্যায়াগন’ নিয়ে বিতর্ক এখন আর কেবল একটি সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সার্টিফিকেশন জটিলতা, বিষয়বস্তুর আপত্তি ও আইনি নজরদারির কারণে ছবিটি দীর্ঘ সময় ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ছিল। আদালতের শুনানি ও নির্মাতা-কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বিষয়টি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।

এর আগেই কংগ্রেসের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ছবির নির্মাতাদের পাশে দাঁড়িয়ে সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনও একই সুরে বলেন, রাজনৈতিক চাপ দিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতিকে লক্ষ্যবস্তু করা অনুচিত। এই প্রেক্ষাপটেই রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে অনেকেই আরও গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যের অংশ হিসেবে দেখছেন।

রাহুলের এই অবস্থানের পর কংগ্রেসের অন্দরমহলে তামিলনাড়ু নিয়ে নতুন করে কৌশলগত আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের একটি অংশ মনে করছে, বিজয়ের দল টিভিকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের জনপ্রিয়তা কংগ্রেসের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

তবে দলের ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক পথ। তাঁদের যুক্তি, স্থিতিশীল এই জোট কংগ্রেসকে রাজ্যে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। নতুন জোটের সম্ভাবনা যতই আকর্ষণীয় হোক, তাতে ঝুঁকিও কম নয় বলে তাঁদের মত।

ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে জয়ললিতা ও এম করুণানিধির মৃত্যুর পর নতুন শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতায় নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, আর বিজয়কে অনেকেই সেই সম্ভাব্য শক্তি হিসেবেই দেখছেন। তারকাখ্যাতি ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সমন্বয়ে তিনি অনিশ্চিত হলেও প্রভাবশালী এক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে জনমত, সম্ভাব্য জোট ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোঝার জন্য কংগ্রেস একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালাতে পারে। সেই সমীক্ষার ফলের ওপরই নির্ভর করবে দলের চূড়ান্ত কৌশল। তখনই স্পষ্ট হবে—রাহুল গান্ধীর এই অবস্থান কি কেবল একজন অভিনেতার পক্ষে দাঁড়ানো, নাকি তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের প্রথম সংকেত।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার লেনদেনের চাহিদাও বেড়ে চলেছে।... বিস্তারিত