ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

রেকর্ড পরিমাণ ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৪:১৪:৪০

রেকর্ড পরিমাণ ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, দ্বিতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার অংশ হিসেবে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী এবং দুই হাজার ৫০০ বিশেষায়িত কর্মী রয়েছেন।

দফতরের দাবি, অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।

এই বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ব্যাপকতা ফুটিয়ে তোলে। গত মাসে প্রশাসন জানিয়েছিল, তাদের সময়ে ২৫ লাখের বেশি স্বেচ্ছা প্রস্থান ও বহিষ্কার সম্পন্ন হয়েছে, যা তারা ‘রেকর্ড সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে এসব বহিষ্কারের মধ্যে বৈধ ভিসাধারীরাও ছিলেন, যা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি ভিসা প্রদানের নীতিও কঠোর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই প্রসারিত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, “আমরা আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে এসব অপরাধীকে বহিষ্কার অব্যাহত রাখব।” উপ-মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা বাতিলের প্রধান কারণ হলো মেয়াদ অতিক্রম, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা এবং চুরি। ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে।

দফতর ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ চালু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সকল বিদেশি নাগরিকের আইন মেনে চলার নিশ্চয়তা দেবে এবং যারা আমেরিকানদের জন্য হুমকি, তাদের দ্রুত ভিসা বাতিল করবে। কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন আবেদনকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে যাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে।

গত নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, শপথগ্রহণের পর থেকে প্রায় ৮০ হাজার অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল হয়েছে। এদের অপরাধের মধ্যে ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা ও চুরি। ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ‘আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অপরাধী বহিষ্কার কর্মসূচি’ চালাবেন। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি।

তবে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতিতে অপরাধী ও নিরপরাধ উভয়ই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। ভিন্নমত পোষণকারী ভিসাধারীরাও টার্গেট করা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক কেবল ক্যাম্পাস পত্রিকায় একটি সম্পাদকীয় লেখার কারণে ভিসা বাতিলের মুখে পড়েন।

অক্টোবরে আরও ছয়জন বিদেশির ভিসা বাতিল করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড উদযাপন করার অভিযোগ আনা হয়। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, “যারা আমেরিকানদের মৃত্যুকামনা করে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আশ্রয় দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিবাসন নীতিকে ঘিরে সহিংসতা ও ক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা রেনে নিকোল গুড গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (১৩ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার লেনদেনের চাহিদাও বেড়ে চলেছে।... বিস্তারিত