ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২
ভোট কারচুপির মহাপ্রকল্প: যাদের পরিকল্পনায় ক্ষমতা ধরে রেখেছিল হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছিল একটি সুপরিকল্পিত ও অভিনব কাঠামোর মাধ্যমে, যার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের হাতে। এসব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তবে সময়ের সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার মূল কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সরে গিয়ে প্রশাসনের হাতে চলে যায়। ফলে তিনটি নির্বাচনেই সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই এমন তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে।
তদন্ত কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা নির্বাচন কমিশনের সচিবরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্দিষ্ট ভূমিকা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়। ওই নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণভাবে সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য ঘোষণা করা হয়। অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনেও পরিকল্পিত কৌশলে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরও ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে ফল নির্ধারণ করা হয়। আর ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখাতে ডামি প্রার্থী ব্যবহারের কৌশল নেওয়া হয়।
সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিশনপ্রধান, হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন। এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভোট ডাকাতির কথা আমরা শুনেছি, কিছুটা জানতামও। কিন্তু পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে এভাবে নির্লজ্জভাবে বিকৃত করে নিজেদের মতো করে রায় লিখে দেওয়ার বিষয়টি ভয়াবহ।” তিনি বলেন, জনগণের অর্থে নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জনগণ যেন স্বস্তি পায়, সে জন্য জড়িতদের পরিচয় ও ভূমিকা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন আয়োজনের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর একটি নির্দিষ্ট অংশকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যমের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ, নির্বাচন-পরবর্তী নথি ধ্বংস, বিরোধী দল ভাঙার চেষ্টা এবং বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ছিল এই প্রক্রিয়ার অংশ। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধনেও গুরুতর অনিয়ম করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচন ঠেকাতে তদন্ত কমিশন একাধিক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনে গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা বন্ধ, প্রশাসন ক্যাডার থেকে ইসি সচিব নিয়োগ না দেওয়া, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ এবং গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর অনিয়মের বিস্তারিত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনকেও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, মাত্র চার মাসে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে সবকিছু তদন্ত সম্ভব না হলেও যেসব বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর কৌশল নেওয়া হয়। কিন্তু বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বুঝতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।
বর্তমানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ ও জাহাঙ্গীর আলম কারাগারে রয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়কার ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক পরে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে পলাতক।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশনপ্রধান শামীম হাসনাইন বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে একটি গভীর ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়ন করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছিল এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বাধা, তাই সেটি বাতিল করা হয়। প্রশাসনের ভেতরে ‘বিশেষ নির্বাচন সেল’ গঠন করে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং এমনকি সেনাবাহিনীর একটি অংশকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম সিলেট টাইটান্স: বোলিংয়ে ঢাকা-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম রংপুর রাইডার্স: ম্যাচটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম নোয়াখালী এক্সপ্রেসের খেলা শেষ-দেখুন ফলাফল
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম ঢাকা ক্যাপিটালস: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- নোয়াখালী বনাম রাজশাহী: জমজমাট খেলাটি শেষ-জানুন ফলাফল
- ঢাকা বনাম রাজশাহী: ২৩ বল হাতে রেখেই জয়-দেখুন ফলাফল
- চলছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলা-সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাকা ক্যাপিটালস-সিলেট টাইটান্সের জমজমাট খেলা শেষ-দেখুন ফলাফল
- চিকিৎসা জগতের আলোকবর্তিকা ডা. কোহিনূর আহমেদ আর নেই
- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- দীর্ঘ সংকট কাটাতে বাজারে ১০ শক্তিশালী কোম্পানি আনছে সরকার
- শেয়ারবাজারে নতুন নামে আসছে তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান: বছরের শুরুতেই হাইভোল্টেজ ম্যাচ-দেখুন সরাসরি
- চট্টগ্রাম রয়্যালস বনাম সিলেট টাইটান্স: জমজমাট খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- সুন্দরবনে ভ্রমণে গিয়ে প্রাণ হারালেন ঢাবি শিক্ষক