ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

নির্বাচনী জরিপ: বিএনপি ও জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৯:৪৩:১১

নির্বাচনী জরিপ: বিএনপি ও জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক জনমত জরিপে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বড় দুই দলের মধ্যে জনসমর্থনের ব্যবধান মাত্র ১.১ শতাংশ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

চারটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান—প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ—যৌথভাবে এই জরিপটি পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের ২২ হাজার ১৭৪ জন ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই ফলাফল তৈরি করা হয়েছে।

জরিপের ফলাফল ও দলীয় অবস্থান

জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন রয়েছে ৩৪.৭ শতাংশ ভোটারের। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৩.৬ শতাংশ মানুষ। এছাড়া নতুন দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৭.১ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। অন্যান্য দলের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪.৫ শতাংশ ভোটার।

সমর্থনের কারণ

বিএনপি সমর্থকদের ৭২.১ শতাংশ মনে করেন দলটির অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রধান শক্তি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থনের পেছনে সততা এবং কম দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবমূর্তিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা। জুলাই বিপ্লবে বিশেষ ভূমিকার কারণে নতুন দল এনসিপির প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নির্ধারক হতে পারেন ১৭ শতাংশ ভোটার

জরিপে অংশ নেওয়া ১৭ শতাংশ ভোটার এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থার সংকটে ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৭ শতাংশ ‘অনিশ্চিত’ ভোটারই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন আইআইএলডি কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রফেসর মুশতাক খান, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এ.কে.এম ওয়ারেসুল করিম এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর। বক্তারা জানান, ভোটারদের বড় একটি অংশ এখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত