ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরানজুড়ে নি-হ-ত পাঁচ শতাধিক

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:৩৬:৫৩

সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরানজুড়ে নি-হ-ত পাঁচ শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজপথ ক্রমেই রক্তাক্ত হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে জন্ম নেওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন ভয়াবহ দমন-পীড়নের মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুর খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি অতীতেও ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে আসছে।

তবে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বন্ধ থাকায় প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার এখন পর্যন্ত নিহতের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, তথ্যপ্রবাহ সীমিত রাখার সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযান আরও জোরদার হতে পারে।

রোববারও রাজধানী তেহরান ও দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে এসব বিক্ষোভ খুব অল্প সময়ের জন্য এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

কিছু এলাকায় নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে এবং আন্দোলনকারীরা কৌশল পরিবর্তন করে ক্ষুদ্র পরিসরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সংসদে তার এই বক্তব্যের সময় আইনপ্রণেতাদের একাংশ ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান দেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। যদিও হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ইরান ইস্যুতে কোনো চূড়ান্ত অবস্থান বা সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান প্রায় ১৪ লাখে পৌঁছেছে। শুরুতে অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সরকার ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত