ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মালদ্বীপে অবৈধ প্রবাসীদের বৈধতার বড় সুযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: মালদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অবস্থায় থাকা প্রবাসী কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। দেশটির সরকারের ঘোষিত বিশেষ লিগ্যালাইজেশন প্রোগ্রাম-এর আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অবৈধ প্রবাসীরা আবারও কাজ ও বসবাসের বৈধতা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানানো হয়, এই কর্মসূচির আওতায় আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে পরবর্তীতে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত লিগ্যালাইজেশন প্রোগ্রাম কার্যকর থাকবে। তবে বৈধতা পেতে হলে আবেদনকারীকে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত যাচাই-বাছাই শেষে তবেই কাউকে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেবে মালদ্বীপ সরকার।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই সুযোগ কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য—যারা বর্তমানে আনডকুমেন্টেড কর্মী, অর্থাৎ যাদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নেই, কিন্তু যারা কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত নন এবং সরকারি ব্ল্যাকলিস্টে নেই। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে অবশ্যই মালদ্বীপে অবস্থানরত থাকতে হবে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা জানানো হয়েছে—যে কোম্পানি বা নিয়োগকর্তার অধীনে আগে কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট ছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই পুনরায় বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। এছাড়া এই কর্মসূচির আওতায় একজন কর্মী জীবনে মাত্র একবারই বৈধতার সুযোগ পাবেন।
হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বরের আগে যেসব প্রবাসী ‘মিসিং রিপোর্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তারাও এই কর্মসূচির আওতায় বৈধ হওয়ার আবেদন করতে পারবেন—যা অনেক প্রবাসীর জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে যেসব প্রবাসী কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা কোম্পানিকে এক্সপ্যাট সিস্টেম ব্যবহার করে মালদ্বীপ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বৈধতার আবেদন দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে নিয়োগকর্তাদের জন্য শিগগিরই একটি বিস্তারিত ইউজার গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, যারা অপারেশন কুরাঙ্গী-এর আওতায় আগে বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন কিন্তু বর্তমানে কোনো নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত নন, তারাও এই কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারবেন। তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি মিনিস্ট্রির নির্ধারিত অনলাইন ফরম পূরণ করে কাজের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির সঙ্গে আবেদনকারীদের তথ্য মিলিয়ে দেবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে জনবল প্রয়োজন, সেখানেই জব ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
প্রবাসী সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই লিগ্যালাইজেশন প্রোগ্রাম মালদ্বীপে অবস্থানরত হাজারো অবৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে এবং তাদের জীবনে নতুন করে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দেবে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির