ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি তুলছে সরকার

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ২১:০৭:১৪

ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ হাজার কোটি তুলছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুদবিহীন অর্থায়নের পথে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শরীয়াহভিত্তিক ব্যবস্থায় ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে ১০ বছর মেয়াদি সুকুক বা ইসলামী বন্ড ছাড়ছে সরকার, যা ইস্যু করা হবে নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এ বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটি বছরে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মুনাফা পাবে, যা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্পেশাল সুকুক-১’ নামে এই বন্ডের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে এক দশক। সরকারের প্রত্যাশা, এই সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থের জোগান মিলবে, অন্যদিকে ইসলামী পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটি গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি বৈঠক করে। বৈঠকে ইজারা পদ্ধতিতে এই সুকুক ইস্যুর প্রস্তাবে সর্বসম্মত মতামত দেওয়া হয়।

সুকুকের ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্মিত সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্দিষ্ট কিছু সেবা। প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে সুকুকটি সরাসরি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা হবে। আগামী ১৪ জানুয়ারি ব্যাংকটির কাছ থেকে সরকার এই ১০ হাজার কোটি টাকা গ্রহণ করবে।

অর্থনৈতিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সুকুক ইস্যু সরকারের উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য এটি একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করবে।

উল্লেখ্য, আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্প্রতি গঠন করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

সারা দেশে এসব ব্যাংকের রয়েছে ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ। ব্যয় কমাতে একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা কমিয়ে একটি বা দুটি করা হবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমাতে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত