ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আসছে নতুন বাজেট, লাভবান হবেন কারা, বাড়বে কোন পণ্যের খরচ?

২০২৬ জুন ০৯ ১০:২৮:২২

আসছে নতুন বাজেট, লাভবান হবেন কারা, বাড়বে কোন পণ্যের খরচ?

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রস্তাবিত এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমতে পারে। তবে তামাকজাত পণ্য, রড এবং কিছু বিলাসী আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হতে পারে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা হতে পারে, যার বড় অংশই আসবে দেশীয় ও বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের কথাও ভাবা হচ্ছে, যা বাজারদর কমাতে সহায়ক হতে পারে।

দেশীয় তৈলবীজ থেকে উৎপাদিত ভোজ্যতেলের জন্য ১০ বছরের কর অব্যাহতি, জ্বালানি তেলের উৎসে কর হ্রাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কর কমানোর প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতেও দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, ওষুধের কাঁচামাল, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব আসতে পারে। অন্যদিকে স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনের কাঁচামালে কর কমানো, সিমের ওপর কর প্রত্যাহার এবং প্রযুক্তিপণ্যের আমদানি শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এছাড়া ইলেকট্রিক যানবাহন ও চার্জিং স্টেশনের ওপর কর শূন্যে নামিয়ে আনা এবং নিবন্ধন ফি কমানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে। সোনা আমদানির ক্ষেত্রেও উৎসে কর ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যে সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি, রড ও নির্মাণসামগ্রীর ওপর ভ্যাট বাড়ানো এবং বিদেশি প্রসাধনী ও উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যের মতো বিলাসী সামগ্রীর ওপর বাড়তি ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব আসতে পারে। এর ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

এ ছাড়া কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং হিমায়িত মাছ আমদানিতে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত