ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

শেয়ারবাজারে ১০ সরকারি ও বহুজাতিক জায়ান্ট আনার উদ্যোগ

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০০:২২:১৯

শেয়ারবাজারে ১০ সরকারি ও বহুজাতিক জায়ান্ট আনার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে মানসম্মত ও লাভজনক শেয়ারের ঘাটতি থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট কাটাতে এবং বাজারে নতুন গতি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ১০টি সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো—লাভজনক ও শক্তিশালী এসব প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী করে তোলা এবং তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে তারা কী ধরনের নীতিগত সুবিধা বা সহায়তা প্রত্যাশা করে, তা সরাসরি জানা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন এবং কয়েকটিতে সরকারের আংশিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার হলো—যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত মুনাফা করছে, সেগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা।

বৈঠকে আমন্ত্রিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। পাশাপাশি বহুজাতিক খাত থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, নেসলে বাংলাদেশ, সিনজেন্টা বাংলাদেশ, সিনোভিয়া বাংলাদেশ এবং নোভারটিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হবে। এসব কোম্পানিকে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেয়ারবাজারের অস্থিরতার অন্যতম বড় কারণ হলো মৌলভিত্তি শক্ত এমন কোম্পানির ঘাটতি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল পারফর্ম করা শেয়ারবাজারগুলোর একটি ছিল। চলতি ২০২৫ অর্থবছরেও ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৩৫১ পয়েন্ট বা ৬.৭ শতাংশ কমেছে এবং বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

এই প্রেক্ষাপটে ইউনিলিভার বা নেসলের মতো আন্তর্জাতিক মানের ‘ব্লু-চিপ’ কোম্পানি বাজারে এলে তারল্য সংকট অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতায় থাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মানসম্পন্ন আইপিওর অভাব পূরণ করতেই সরকার এবার সরাসরি লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত