ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ন্যাশনাল ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৫৭:২৯

ন্যাশনাল ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকদের বাড়তি নগদ উত্তোলনের চাপ সামাল দিতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৯০ দিনের জন্য ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে। গ্রাহকদের চাহিদামতো অর্থ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ব্যাংকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চেয়ে আবেদন করে। সেই প্রেক্ষাপটেই জরুরি তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড-এর এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের আগে সাধারণত নগদ উত্তোলন বেড়ে যায়। কিন্তু আমানত প্রবাহ ও ঋণ আদায়ের বর্তমান অবস্থা দিয়ে তারল্য ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব। কোনো ব্যাংক সমস্যায় পড়লে সহায়তা না দিলে তা পুরো অর্থনীতিতে আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে তারল্য জোগান দেওয়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা জানান, ‘ডিমান্ড প্রমিসরি (ডিপি) নোট’-এর বিপরীতে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। যদিও ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সংকোচনশীল অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে এবং চলতি বছরের প্রথমার্ধে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, তবুও অতিরিক্ত তারল্য মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে গত কয়েক বছর ধরেই চাপের মুখে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ। চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুর পর পারিবারিক বিরোধে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে চেয়ারম্যান করা হয়। তার সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর সঙ্গে একীভূতকরণের আলোচনা শুরু হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয় এবং নিয়ন্ত্রণ যায় এস আলম গ্রুপের হাতে। সরকার পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয় এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। এর মধ্যেই একাধিকবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি সহায়তা নিতে হয়েছে ব্যাংকটিকে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত