ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

সঞ্চয়পত্রের সিদ্ধান্তে মুখ থুবড়ে পড়ল শেয়ারবাজার

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৯:৪৭:৩১

সঞ্চয়পত্রের সিদ্ধান্তে মুখ থুবড়ে পড়ল শেয়ারবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারের সঙ্গে বাজারের অস্থিরতা সরাসরি সম্পর্কিত: নতুন বছরের শুরুতে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, এরপর দরপতনের হাওয়া। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর ঘোষণা আসার পর দুই কার্যদিবস দাম বেড়ে যাওয়ার পর, সরকার ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করলে সোমবার শেয়ারবাজারে ফের দরপতন শুরু হয়। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ডিএসইতে মূল্যসূচক কমেছে, অন্যদিকে সিএসইতে সূচক বেড়েছে। তবে দুই বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে। স্কিম অনুযায়ী সর্বোচ্চ হার ছিল ১০.৪৪ থেকে ১০.৫৯ শতাংশ, যা আগে ১১.৮২ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। অর্থাৎ প্রায় ১ শতাংশের হারে মুনাফা কমানো হয়েছে।

মুনাফার হার কমানোর পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস (১ ও ৪ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়। ডিএসইতে লেনদেন এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়। কিন্তু ৪ জানুয়ারি বিকালে সরকার মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করলে সোমবার ফের দরপতন শুরু হয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও লেনদেনের সময় দরপতনের তালিকা দীর্ঘ হয়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

ডিএসইতে দিনের শেষে ১৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে, ১৮৯টির দাম কমেছে, এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি ডিভিডেন্ড দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭টির দাম বেড়েছে, ৮০টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ৪৫টির। ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানির মধ্যে ২০টির দাম বেড়েছে, ৬৪টির দাম কমেছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৪,৯৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ০.৯ পয়েন্ট বেড়ে ১,৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১,৮৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর ঘোষণা দুইদিন শেয়ারবাজারে উত্থান আনলেও, সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এটি সাময়িক হবে। বেশিরভাগ শেয়ার এখন তলানিতে অবস্থান করছে।

লেনদেনের দিক থেকেও বাজারে হ্রাস দেখা গেছে। সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসে ছিল ৫৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। বড় লেনদেনে শীর্ষে ছিলেন ওরিয়ন ইনফিউশন (২২ কোটি ৭৯ লাখ), উত্তরা ব্যাংক (১৭ কোটি ২৭ লাখ) এবং মালেক স্পিনিং (১৩ কোটি ৯১ লাখ)।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিলেন: সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হান কটন, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং রহিমা ফুড।

অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকায়। ১৬০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির দাম বেড়েছে, ৭৬টির কমেছে, এবং ১৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেন ছিল ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত