ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোকসানে আইসিবি; ১৪০ কোটির বিনিয়োগ গায়েব!
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং ভুল বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। সম্প্রতি ৫টি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোতে থাকা আইসিবির প্রায় ১৪০ কোটি টাকার বিনিয়োগ পুরোপুরি গায়েব হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫টি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সেগুলোর পরিশোধিত মূলধন ‘শূন্য’ ঘোষণা করেছে। এর ফলে আইসিবির নিজস্ব ১২০ কোটি টাকা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০ কোটি টাকাসহ মোট ১৪০ কোটি টাকার শেয়ারের মূল্য এখন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে এক্সিম ব্যাংকে, যেখানে আইসিবির বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
আইসিবির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, শেয়ারের দর কমতে থাকাকালে বোর্ড থেকে লোকসান দিয়ে হলেও শেয়ার বিক্রির সুযোগ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা না করায় এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়ে গত বোর্ড সভায় দায়ী কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, বাজার পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপ হয়েছে যে পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল।
রক্তক্ষরণ চলছে আইসিবিতে
এক সময়ের লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২১৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা লোকসান করেছে, যা এর ইতিহাসে প্রথম এবং সর্বোচ্চ লোকসান। এই বিশাল লোকসানের কারণে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিবি।
আর্থিক বিপর্যয়ের মূল কারণসমূহ
• দুর্বল এনবিএফআই-তে বিনিয়োগ: বেশ কিছু দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইসিবির ৯২০ কোটি টাকা এফডিআর (এফডিআর) হিসেবে আটকে আছে।
• উচ্চ সুদ ব্যয়: মূলধন বাজারে বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে ৯৪১ কোটি টাকা সুদ গুণতে হয়েছে আইসিবিকে।
• পরিচালন আয় হ্রাস: গত অর্থবছরের তুলনায় আইসিবির পরিচালন আয় ২১ শতাংশ কমে ৭১৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিভিডেন্ড আয় এবং ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনী মুনাফাও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে আইসিবির এই ভঙ্গুর দশা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটির কর্মকর্তারা লোকসানের পেছনে প্রভিশনিং বৃদ্ধি এবং উচ্চ সুদ ব্যয়কেই প্রধান দায়ী হিসেবে দেখছেন।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- আগামী ১০ বছরে যেসব চাকরির চাহিদা বাড়বে, জেনে নিন
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, ৭ বছরের জেল
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর
- নতুন প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ঘরে ঘরে সচেতনতা জরুরি
- মেসির চার গোলে ইতিহাস গড়ল ইন্টার মিয়ামি