ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২
হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
নিজস্ব প্রতিবেদক :জীবন হলো পরীক্ষা—এমন এক সত্য যা কেউ এড়াতে পারে না। সুখ, দুঃখ, আশা, হতাশা—এগুলো মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ। ইসলামে এই বাস্তবতা মানব জীবনের একটি অংশ হিসেবে স্বীকৃত। আল্লাহ তাআলা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাঁর ইবাদত এবং আনুগত্যের জন্য। কিন্তু সেই সঙ্গে, জীবনকে চ্যালেঞ্জময় করে দেওয়া বিভিন্ন পরিস্থিতিই মুমিনদের জন্য কল্যাণের পথ খুলে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে কোনো শারীরিক বা মানসিক কষ্ট— একটি কাঁটার আঘাত—একজন মুমিনের জন্য তার পাপ ক্ষমার সুযোগ। অর্থাৎ প্রতিটি কষ্টের মুহূর্তই একটি শিক্ষার বার্তা বহন করে। এটি কেবল আত্ম-উন্নয়নের জন্য নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
কোরআন ও সুন্নাহতে হতাশা এবং দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য বেশ কিছু প্রমাণিত উপায় উল্লেখ আছে। প্রথমত, আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখা। যিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন, আল্লাহ তাকে যথেষ্ট সহায়তা প্রদান করেন (আত-তালাক: ৩)। দ্বিতীয়ত, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া। আল্লাহ বলেন, “তোমরা ধৈর্য এবং সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও” (আল-বাকারাহ: ৪৫)। তৃতীয়ত, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে অন্তরকে প্রশান্ত রাখা যায় (আর-রাদ: ২৮)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) দুশ্চিন্তা, হতাশা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা এবং মানুষের অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্য দোয়া শেখিয়েছেন। এই দোয়া একজন মুমিনকে মানসিক শক্তি এবং আধ্যাত্মিক নিরাপত্তা প্রদান করে (বুখারি: ২৮৯৩)।
হতাশা এড়াতে তাকদিরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকা অপরিহার্য। মহানবী (সা.) বলেছেন, “যা ঘটে তা তোমার ভুলের জন্য নয়; এবং যা তোমার ভুলের কারণে ঘটে, তা তোমার ভাগ্যে ছিল না।” (আবু দাউদ: ৪৬৯৯) অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর নিদর্শন এবং শিক্ষার অংশ।
এছাড়া, ইসলামে সৎ সঙ্গী বাছাই, ভালো পরিবেশে থাকা, অল্পে তুষ্ট থাকা, নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও আমল করা এবং বেশি বেশি ইবাদত করা—এগুলোও হতাশা দূর করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আল্লাহ বলেন, “কোরআন হলো শেফা ও দয়া” (বনি ইসরাঈল: ৮২) এবং “সাজদাহ করো এবং আমার নিকটবর্তী হও” (আল আলাক: ১৯)।
আজকের মনস্তাত্ত্বিক গবেষণাও প্রমাণ করে, ইতিবাচক চিন্তা, ধৈর্য এবং সামাজিকভাবে ইতিবাচক বন্ধুত্ব মানসিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে। ইসলামের এই নির্দেশনাগুলোও মানব মনোবিজ্ঞানকে সমর্থন করে।
অতএব, হতাশা ও দুশ্চিন্তার মুখোমুখি হলে সঠিক দিকনির্দেশনা, আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং ধৈর্য একটি মুমিনকে মানসিক শান্তি ও কল্যাণ প্রদান করতে পারে। এটি কেবল দুনিয়ার জীবনের জন্য নয়, পরকালের জন্যও তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে, ইনশাআল্লাহ।
ডুয়া/নয়ন
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন