ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

গুম-খুনে জড়িত সামরিক-পুলিশ-গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিচার দাবি ডাকসুর

২০২৫ অক্টোবর ১১ ১৩:১০:০৫

গুম-খুনে জড়িত সামরিক-পুলিশ-গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিচার দাবি ডাকসুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: গুম, খুন ও ক্রসফায়ারে জড়িত সামরিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীর সদস্যদের অতি দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

আজ শনিবার (৯ অক্টোবর) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এসএম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময় ছিল বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামল। সেই সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। গুম কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ১৮০০-এর অধিক গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে। যার শিকার হয়েছেন সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, নারী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি শিশুরাও এই নৃশংসতার হাত থেকে রেহাই পায়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ কেবল স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক মহলই দায়ী নয়। বরং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা ও সংস্থাগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। “আয়নাঘর”সহ গোপন বন্দিশালায় চালানো অমানবিক নির্যাতন সভ্য সমাজে লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে অসংখ্য নাগরিককে জোরপূর্বক গুম করে ফেলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং তাদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে প্রচার করা ছিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি পরিকল্পিত কৌশল।

'সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ডিজিএফআইয়ের প্রাক্তন প্রধানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গুম, গোপন আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই পদক্ষেপ গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের দীর্ঘ দিনের বেদনা-বিক্ষোভে কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে। কিন্তু এটি যথেষ্ট নয়।'

গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের সকল সদস্যের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিএফআই, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা এই অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। গুম কমিশনের তদন্তকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে পরিচালনা করতে হবে যাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়। চিহ্নিত অপরাধীদের ‘সেইফ এক্সিট’ বা দায়মুক্তি দেওয়ার যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সোচ্চার থাকবে।

দেশে সত্যিকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ রাষ্ট্রের কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের আস্থা ফিরে পাবে না। অপরাধীদের বিচার সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করবে না বরং তা তাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও গণমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করবে।

এমজে

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত