ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কে এই ফিলিস্তিনি চিকিৎসক, যিনি নোবেল শান্তিতে মনোনীত?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের মধ্যেও অবিচল সাহস ও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে সেবা চালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুসসাম আবু সাফিয়াকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছে নেদারল্যান্ডসের চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস ফর গাজা ইন দ্য নেদারল্যান্ডস’।
এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণার আগেই আলোচনায় এসেছে ফিলিস্তিনের গাজার চিকিৎসক ডা. হুসসাম আবু সাফিয়া। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের মানবাধিকার সংগঠন ‘ডক্টরস ফর গাজা ইন দ্য নেদারল্যান্ডস’। সংগঠনটি জানায়, ইসরাইলি হামলার মধ্যেও মানবতার সেবা চালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় দৈনিক সিয়াসাত জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলের কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাফিয়া ছিলেন ইসরাইলি বাহিনীর টার্গেটে। ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাকে এবং তার সহকর্মীদের গ্রেফতার করে ইসরাইলি সেনারা। ওই সময় কামাল আদওয়ানই ছিল গাজার উত্তরাঞ্চলের শেষ চালু থাকা হাসপাতাল।
তার আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, কারাবন্দি অবস্থায় ডা. সাফিয়ার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। নির্যাতনের কারণে তার ওজন প্রায় ৩০ কেজি কমে গেছে, এবং বর্তমানে তিনি স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একাকী অবস্থায় আছেন। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ ও বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতজনিত ত্বকের জটিলতাও বেড়ে চলেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ডা. সাফিয়ার আটককে বর্ণনা করেছে “নিষ্ঠুর ও অমানবিক” পদক্ষেপ হিসেবে। তারা বলছে, ইসরাইলের অব্যাহত হামলার মধ্যেও তিনি হাসপাতালের রোগীদের পাশে ছিলেন, এবং আশপাশে মানব ঢাল গড়ে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।
ডা. সাফিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিমের মৃত্যু—যাকে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল সাফিয়াকে ভয় দেখানো, কিন্তু তিনি পিছু হটেননি; বরং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
নোবেল মনোনয়ন প্রকাশ্যে এনেছে ডাচ মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস ফোরাম’, যারা বলেছে—ডা. সাফিয়ার এই স্বীকৃতি “অসম্ভব পরিস্থিতিতেও জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে অবিচল মানুষের প্রতি এক গভীর সংহতির প্রতীক।”
এমন মানবিক সাহসিকতার স্বীকৃতি জানিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ অনলাইনে তার নোবেল মনোনয়নকে সমর্থন করেছেন।
উল্লেখ্য, গাজায় চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১,৬৭০ জনের বেশি চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ৩৬২ জন চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির