ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
কে এই ফিলিস্তিনি চিকিৎসক, যিনি নোবেল শান্তিতে মনোনীত?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের মধ্যেও অবিচল সাহস ও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে সেবা চালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হুসসাম আবু সাফিয়াকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছে নেদারল্যান্ডসের চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস ফর গাজা ইন দ্য নেদারল্যান্ডস’।
এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণার আগেই আলোচনায় এসেছে ফিলিস্তিনের গাজার চিকিৎসক ডা. হুসসাম আবু সাফিয়া। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের মানবাধিকার সংগঠন ‘ডক্টরস ফর গাজা ইন দ্য নেদারল্যান্ডস’। সংগঠনটি জানায়, ইসরাইলি হামলার মধ্যেও মানবতার সেবা চালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় দৈনিক সিয়াসাত জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলের কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাফিয়া ছিলেন ইসরাইলি বাহিনীর টার্গেটে। ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাকে এবং তার সহকর্মীদের গ্রেফতার করে ইসরাইলি সেনারা। ওই সময় কামাল আদওয়ানই ছিল গাজার উত্তরাঞ্চলের শেষ চালু থাকা হাসপাতাল।
তার আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, কারাবন্দি অবস্থায় ডা. সাফিয়ার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। নির্যাতনের কারণে তার ওজন প্রায় ৩০ কেজি কমে গেছে, এবং বর্তমানে তিনি স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একাকী অবস্থায় আছেন। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ ও বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতজনিত ত্বকের জটিলতাও বেড়ে চলেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ডা. সাফিয়ার আটককে বর্ণনা করেছে “নিষ্ঠুর ও অমানবিক” পদক্ষেপ হিসেবে। তারা বলছে, ইসরাইলের অব্যাহত হামলার মধ্যেও তিনি হাসপাতালের রোগীদের পাশে ছিলেন, এবং আশপাশে মানব ঢাল গড়ে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।
ডা. সাফিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিমের মৃত্যু—যাকে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়। হামলার লক্ষ্য ছিল সাফিয়াকে ভয় দেখানো, কিন্তু তিনি পিছু হটেননি; বরং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
নোবেল মনোনয়ন প্রকাশ্যে এনেছে ডাচ মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস ফোরাম’, যারা বলেছে—ডা. সাফিয়ার এই স্বীকৃতি “অসম্ভব পরিস্থিতিতেও জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে অবিচল মানুষের প্রতি এক গভীর সংহতির প্রতীক।”
এমন মানবিক সাহসিকতার স্বীকৃতি জানিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ অনলাইনে তার নোবেল মনোনয়নকে সমর্থন করেছেন।
উল্লেখ্য, গাজায় চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১,৬৭০ জনের বেশি চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ৩৬২ জন চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত